বর্ষার আগে রামপুরহাটে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে ব্রাহ্মণী নদীর বালি মজুত
বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ফি বছর বর্ষায় বালির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। তাই বর্ষার আগে রামপুরহাটে ব্রাহ্মণী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে রাস্তার ধারে মজুত করা শুরু করেছে অসাধু কারবারিরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিস-প্রশাসনের মদত ছাড়া রাস্তার ধারে স্তূপাকারে বালি মজুত করে কারবার চলতে পারে না। কারবারিবা প্রভাবশালী হওয়ায় লোকজন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈধ বালির কারবারিরা সরকারের কাছে আবেদনের ভিত্তিতে বালি মজুত করতে পারেন। তার জন্য বাড়তি রাজস্বও দিতে হয়। মূলত বর্ষায় বালির জোগান যাতে একেবারে বন্ধ না হয়, তারজন্যই অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রাতের অন্ধকারে, কখনও ভোরের দিকে ব্রাহ্মণী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে ট্রাক্টরে চাপিয়ে রাস্তার ধারে মজুত করা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। রামপুরহাট থেকে বৈধরা গ্রাম যাওয়ার রাস্তার ধারে এমন অসংখ্য জায়গায় বালি মজুত করা হয়েছে। তারমধ্যে দাদাপুর ক্যানেল মোড় ও ছিটাসপুরের কাছে রাস্তার ধারে স্তূপাকারে বালি মজুত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এলাকারই প্রভাবশালী লোকজন এই কারবারে যুক্ত। তাঁদের অভিযোগ, নিত্যদিন এই রাস্তা দিয়ে পুলিস-প্রশাসনের কর্তারা যাতায়াত করেন। তাঁরা দেখলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বিনা পুঁজির ব্যবসা হওয়ায় অনেকেই সেই কারবারে নামছে।
ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, অনুমতি সাপেক্ষে বৈধ ঘাট থেকে বালি তুলে মজুত করা যেতে পারে। তবে রাস্তার অন্তত ২০০ মিটার দূরে বালি মজুত করতে হবে। কিন্তু সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রামপুরহাট-বৈধরা রাস্তার বহু জায়গায় রাস্তার ধারে বালি মজুত করা হচ্ছে।
বুধবার এলাকায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, একেবারে রাস্তার ধারেই বালির পাহাড় তৈরি হয়ে রয়েছে। কোথাও আবার বালি মজুতের জায়গা নেট দিয়ে ঘিরে চলছে কারবার। যদিও স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, অবৈধ বালি পাচারকারীদের সঙ্গে যোগ রয়েছে মজুতদারদের। তারা ট্রাক্টরে করে বালি এনে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে। আর এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নম্বর প্লেটহীন ট্রাক্টর।
রামপুরহাট-১ বিএলএলআরও নীলেশ্বর ভট্টাচার্য বলেন, এভাবে বালি মজুত করা বেআইনি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। শীঘ্রই অভিযান শুরু করব। তবে শুধু রামপুরহাট নয়, মল্লারপুরেও একই চিত্র। সম্প্রতি ময়ূরেশ্বর-১ বিএলএলআরও পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে মল্লারপুরে আম্বা মোড় হয়ে আটলা গ্রাম যাওয়ার রাস্তার ধারে এমনই ‘স্টক পয়েন্টে’ অভিযান চালান। বাজেয়াপ্ত করা হয় ৭২০০ সিএফটি বালি। দশটি ডাম্পার এনে বালিবোঝাই করে নিয়ে যায় দপ্তরের লোকজন। তবে ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তারপরও এই ব্লকের বেশ কয়েকটি রাস্তার ধারে বালি মজুত শুরু হয়েছে।