প্রতি রাতে খাবারের সন্ধানে দুয়ারে হানা হাতির, উদ্বিগ্ন ঝাড়গ্রামবাসী
বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, সাপধরা: ঝাড়গ্রাম ব্লকের সাপধরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় হাতির তাণ্ডবে ঘুম উড়েছে সাধারণ গ্রামবাসীদের। হাতির হানায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি খাবারের সন্ধানে বাড়ি-ঘর ভাঙছে হাতির দল। আর তাতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, সাপধরা, পুকুরিয়া এলাকায় হাতির স্থায়ী বাসস্থান হয়ে গিয়েছে। ওই এলাকায় সারা বছরই হাতির দল দাপিয়ে বেড়ায়। তবে প্রায় এক মাস ধরে একটি দলছুট হাতি ব্যাপক তাণ্ডব করছে। রাতে বিভিন্ন বাড়িতে খাবারের সন্ধানে হানা দিচ্ছে। আর খাবার না পেলেই চলছে তাণ্ডবলীলা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধানের। এছাড়াও আনারসের বাগানে তাণ্ডবলীলা চালানোয় মাথায় হাত উঠেছে চাষিদের।
ঝাড়গ্রামের পুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা আকাশ মণ্ডল বলেন, রোজ রাতে হাতি হানা দিচ্ছে। হাতিটি যেন এখনকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গিয়েছে। আমের ফলন কম হওয়ায় খাবারের সন্ধানে বাড়ি আক্রমণ বেড়ে গিয়েছে। তবে বনদপ্তরের আধিকারিকরা তেমন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। লাগাতার এমন ঘটতে থাকলে এই এলাকার মানুষ আর চাষ করবেন না।
প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রাম জেলার মানুষের কাছে আতঙ্কের অপর নাম হাতি। সেই আতঙ্ক যেন চিরস্থায়ী হয়ে গিয়েছে। শুধু ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ এলাকায় গত এক বছরে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হাতির হানায়। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফসলের ক্ষতি করছে হাতির দল। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বনদপ্তরও। গত আর্থিক বছরে ২৬৪ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ এলাকায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধান ও সব্জির ক্ষতি হয়েছে। মাঠে ছাড়াও বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে ধান সাবাড় করেছে হাতি। ইতিমধ্যেই বনদপ্তরের তরফে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বহু মানুষ ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম ডিভিশন এলাকায় মোট ৪৩টি হাতি রয়েছে। তার মধ্যে ঝাড়গ্রাম, খাসজঙ্গল এলাকায় ১টি, বৃন্দাবনপুর এলাকায় ৫টি, পোষরো এলাকায় ১টি, শালবনী এলাকায় ৩টি, পাথরনালা এলাকায় ১টি, লোধাশুলি, কইমা এলাকায় ২টি, ভাওদা এলাকায় ৪টি, পেনিয়াভাঙা এলাকায় ২টি, কাজলা এলাকায় ১টি, মানিকপাড়া, খাসজঙ্গল এলাকায় ১৪টি, গোবিন্দপুর এলাকায় ৬টি ও গিধনী, টেঙ্গাশোল এলাকায় ৩টি হাতি রয়েছে। নিত্যদিন সন্ধ্যার পর থেকে হাতির দল জঙ্গল পরিবর্তন করছে। এরফলে হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে সমস্যা হচ্ছে বনদপ্তরের। ঝাড়গ্রামের ডিএফও পঙ্কজ সূর্যবংশী বলেন, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। হাতি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।