সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: মনের মিল হলে আর কি লাগে! সাঁকোয়াঝোরার সজনাপাড়া ও রাঙ্গালিবাজনার গোবিনহাটের দুটি মূক-বধির হৃদয় এক হয়ে গেল সাতজন্মের বন্ধনে। আসলে সত্যিকারের প্রেম কাহিনীগুলি সিনেমার স্ক্রিপ্টকেও অনেক সময় হার মানায়। রং নম্বরে একটি মিসড কল। তারপর একের পর এক দিন গিয়েছে, হাত ও মুখের ইশারায় আলাপের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে দু’জনের মনে জমে থাকা সুখ, দুঃখের কথা, ছেলেবেলার স্মৃতি। তাদের প্রেম পরিণতি পেয়েছে গত বুধবার। পরিজন, প্রতিবেশীদের সামনে এক হয়েছে চার হাত।
ধূপগুড়ি মহকুমার সজনাপাড়া এলাকার মূক ও বধির নীলিমা রায়ের যে কোনও দিন বিয়ে হবে, আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন বাবা নীরেশচন্দ্র রায়। একই অবস্থা ছিল রাঙ্গালিবাজনার গোবিনহাটের শ্রীকান্ত বর্মনের একমাত্র ছেলে সুমন্ত বর্মনের। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর নীলিমার ফোনে একটি মিসড কল আসে। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিচয়। তারপর জীবনের নানা ঘটনার কথা একে অপরকে বলতে বলতে প্রেমের শুরু। ভালোবাসার টানে দশ দিন আগে মেয়েটি চলে যায় রাঙ্গালিবাজনায় ছেলের বাড়িতে। পরিবারের সম্মতিতে সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি এখন ভীষণ খুশি। নীলিমার বাবা বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে জন্ম থেকেই মূক ও বধির। ভাবিনি তার বিয়ে হবে। ওরা ভালো থাকুক।
সুমন্তর মা অমৃতা বর্মনের কথায়, ছেলে কথা বলতে পারে না। কিন্তু এই বিয়েতে ওদের মত রয়েছে দেখে আমরাও না করিনি। ভগবান কাউকে না কাউকে ঠিক পাঠিয়ে দেন।
দু’জনের প্রেম কীভাবে এগিয়েছে? নীলিমার মা জয়ন্তী রায় বলেন, মেয়ে মোবাইল নিয়ে থাকত। কিন্তু আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি প্রেমে পড়েছে। ভিডিও কলেই ওদের সম্পর্ক এগিয়েছে।
কথা বলতে না পারলেও ইশারায় নবদম্পতি বুঝিয়ে দিল, জীবনের এই মোড়ে এসে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে নতুন পথে। নীলিমা ও সুমন্ত। - নিজস্ব চিত্র।