সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার পরও হুঁশ ফেরেনি রেলের। শিলিগুড়ি শহরের কাছে চাঁদমণি এলাকায় ফাটল ধরা লাইন দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। এর জেরে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘চেক’ লাইনে ফাটল ধরেছে। শীঘ্রই সেই লাইন বদল করা হবে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে বলেন, ওই ঘটনা সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে জানানো হয়েছে। কাটিহার ডিভিশনের এডিআরএম সঞ্জয় চিল ওয়ারওয়ার বলেন, চাঁদমণিতে মেন লাইন ঠিক আছে। চেক লাইনে ফাটল ধরেছে। সেটির উপর দিয়ে ট্রেনের চাকা গড়ায় না। তা হলেও চেক লাইনটি মেরামতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শীঘ্রই সেই লাইন সরানো হবে।
শিলিগুড়ি শহরের পাশেই চাঁদমণি লেভেল ক্রসিং। এই গেটের নম্বর ‘এসকে-২১৪’। সিটি সেন্টারের বিপরীতে গেটটি। এখানেই লাইনে ফাটল ধরেছে। রবিবার বিকেলে ঘটনাটি লক্ষ্য করেন কয়েকজন পথচারী। তাঁরা বিষয়টি গেটম্যানকে জানান। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়নি। এদিন মহানন্দা এক্সপ্রেস, ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর এক্সপ্রেস সহ অন্যান্য ট্রেন লাইনটির উপর দিয়ে যায়। তবে, ঘটনার পর থেকেই সেগুলির গতি একদম কমিয়ে দেওয়া হয়।
গেটম্যান প্রেম কুমার বলেন, কয়েকদিন আগে বিষয়টি নজরে পড়ে। ঘটনাটি শিলিগুড়ি জংশনের সিনিয়ার সেকশন ইঞ্জিনিয়ারকে জানানো হয়েছে। এখন রেল কর্তৃপক্ষ যা নির্দেশ দেবে, সেই মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়নি। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, মেন লাইনের সহযোগিতা করার জন্যই লেভেল ক্রসিংয়ে বসানো হয় চেক লাইন। মেন লাইনের উপরে ট্রেনের চাকা গড়ায়। চেক লাইন দিয়ে ট্রেনের চাকা গড়ায় না। তাছাড়া ফাটল ধরা চেক লাইনটি ডান ও বাঁ দিকে নড়াচড়া করে না। কাজেই বিপদের আশঙ্কা কম। তা হলেও লাইনটি মেরামতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টির জেরে করা সম্ভব হয়নি। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পর লাইনটি বন্ধ করাও যায়নি। এজন্যই মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগছে। সুতরাং রেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঠিক নয়।
গত সোমবার রাঙাপানি স্টেশনের কাছে নির্মলজোতে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেনের পিছনে মালগাড়ি ধাক্কা মারায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চাঁদমণি এলাকায় লাইনে চিড় ধরার ঘটনা সামনে এসেছে। বাসিন্দারা এনিয়ে রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বক্তব্য, বাইক কিংবা গাড়ি গেলেই ফাটল ধরা লাইনটি ওঠানামা করে। যেকোনও দিন সেটি ভেঙে দু’টুকরো হতে পারে। যার জেরে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা অসম্ভব নয়। তাঁদের অভিযোগ, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বিকলের জেরে নির্মলজোতে একই লাইনে চলে আসে দু’টি ট্রেন। সেই ঘটনার পরও রেল কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। তাই চাঁদমণিতে লাইনে ফাটল ধরলেও রেল কর্তৃপক্ষের ভ্রুক্ষেপ নেই। নিজস্ব চিত্র