• ধান কাটার মেশিনে মহিলার দেহ টুকরো
    বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, পতিরাম ও তপন: তপনের বধূকে খুনের ঘটনায় হাড়হিম করা তথ্য পেল পুলিস। বধূকে হত্যা করার পর ট্রাক্টরের রোটাভেটর দিয়ে দেহ খণ্ডখণ্ড করা হয়েছিল। পরে প্রমাণ লোপাট করতে দেহাংশের টুকরো জমিতে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। অবশেষে পুলিসের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত সাদ্দাম সরকার।


    পুলিস সূত্রে খবর, মৃত বধূর সঙ্গে অভিযুক্তের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কে টানাপোড়েনের জন্যেই খুন। তবে পরিবারের দাবি, ওই বধূকে ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছে। কিন্তু সেই তত্ত্ব মানতে নারাজ পুলিস। প্রতিবাদে তপনের ভাইওরে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বধূর পরিবারের লোকেরা দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখান। 


    দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিস সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, ওই মহিলাকে খুনের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে খুনের কথা স্বীকার করেছে। অভিযুক্তকে জেলা আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।  খুনের উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি। 


    বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই কি খুন? পুলিস সুপার বলেন, ওই দু’জন পূর্ব পরিচিত ছিল। ফোনে কথা হত। মৃতের ছেলেও অভিযুক্তকে চিনত। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


    বধূর ভাই বলেন, দিদি দুই ছেলেকে নিয়ে থাকত। তাকে মাঝেমধ্যে কুপ্রস্তাব দিত সাদ্দাম। রাজি না হওয়াতেই খুনের হুমকি দেয়। এভাবে খুন একা করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে। দিদিকে ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছে। কিন্তু পুলিস মামলায় ধর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করছে না। তাই আমরা আজ পথ অবরোধ করেছি। 


    পুলিস সূত্রে খবর, ওই বধূর বাড়ি তপনের রামচন্দ্রপুরের পশ্চিম নিমপুরে। তাঁর স্বামী দু’মাস আগে চেন্নাইয়ে কাজে গিয়েছেন। অভিযুক্ত সাদ্দামের বাড়ি তপনের তাড়ইটে। সে ট্রাক্টর চালায়। পশ্চিম নিমপুরে কাজে এসে বধূর সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে ফোনেও কথা হত। মাঝেমধ্যে সাদ্দাম বাড়িতেও আসত বলে বধূর ছেলে জানিয়েছে। 


    পুলিস সূত্রে খবর, গত ১৮ জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন বধূ। ২১ তারিখ বিকেলে তপনের কালীকাপুরে অভিযুক্ত সাদ্দামের জমির পাশের একটি জমিতে লাঙল দেওয়ার সময় উদ্ধার হয় পা এবং শরীরের হাড়।  তখন দেহটি  ওই বধূর বলে দাবি করেছিল পরিবার। শনিবার সাদ্দামের খামার বাড়ি ও জমির নানা অংশ খুঁড়ে তল্লাশি চালায় পুলিস। সাদ্দামের জমিতে আরও দেহাংশ উদ্ধার হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতেই সাদ্দামকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। সাদ্দাম বিবাহিত। তার জমিতেই ওই বধূকে খুন করে দেহ ট্রাক্টরের রোটাভেটর দিয়ে কাটা হয়। ১৮ তারিখ রাতেই খুন করা হয়েছে বলে পুলিস অনুমান করছে।
  • Link to this news (বর্তমান)