• পেঁপে বীজের রসে ‘ডেঙ্গু’ মশার লার্ভা বিনাশ, নতুন টোটকা আবিষ্কার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের
    বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৪
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: প্রতিবছর বর্ষার সময় ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে স্বাস্থ্যদপ্তর হিমশিম খায়। জমা জল খুঁজতে গোয়েন্দাগিরি করতে হয় আধিকারিকদের। কোথাও গাপ্পিমাছ আবার কোথাও ব্লিচিং ছড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়। তাতেও সমস্যা মেটে না। কিন্তু লার্ভা বিনাশে সহজ টোটকা আবিষ্কার করেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। পাকা পেঁপের বীজেই ডেঙ্গুর লার্ভা বিনাশ হবে। এমনটাই বলছেন গবেষকরা। 


    বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম চন্দ্র বলেন, পাকা পেঁপের কালো বীজ থেকে নির্যাস বের করতে হবে। তা বিজারক হিসেবে ব্যবহার হয়। বীজ ব্যবহার করে সিলভার ন্যানোপ্যাটিক্যাল তৈরি করা হয়েছে। সিলভার নাইট্রেট নামে একটি রাসায়নিক রয়েছে। সেটিকে পেঁপের বীজের রস দিয়ে বিজারণ করতে হয়। তা জলে দিলে লার্ভা নষ্ট হয়। ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্যান্য মশার লার্ভাও নষ্ট হয়। পরীক্ষামূলকভাবে তা দেখা গিয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যায়ের নামে পেটেন্ট এসেছে। এই ফর্মুলা কোনও সংস্থা কিনলেই তা বাজারে আসবে। সেটি সমস্ত জায়গাতেই ব্যবহার করা যাবে। আশা করা যায় কোনও না কোনও সংস্থা এটিকে বাজারজাত করার জন্য উৎসাহ দেখাবে। এই ধরনের সামগ্রী তৈরি করতে খরচ অনেকটাই কম হবে। এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ফুলের টব বা ড্রামের জলেও তা ব্যবহার করা যায়। এরাজ্যে যথেষ্ট পরিমাণ পেঁপে উৎপাদন হয়। তাই বীজ পেতে তেমন সমস্যা হবে না। পেঁপে খাওয়ার পর বীজ ফেলে দেওয়া হয়। সেটিকে সংগ্রহ করে খুব সহজেই মশা নিধন করা যাবে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি ফাইলেরিয়া রোগ বহনকারী মশার লার্ভাও সহজেই ধ্বংস করা যাবে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার সময় মশার লার্ভা বিনাশ করতে একমাত্র সচেতনতাই ভরসা। কোথাও জল যাতে না জমে, তারজন্য লাগাতার প্রচার করা হয়। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকে। সেখানে গাপ্পিমাছ ছাড়া হয়। কিন্তু সব জায়গায় তা ছাড়া সম্ভব হয় না। কিন্তু পেঁপের বীজ দিয়ে তৈরি হওয়া উপকরণ সব জায়গায় ব্যবহার করা যাবে। জলের মধ্যে তা কিছুটা দিলেই নিমেষে লার্ভা ধ্বংস হয়ে যাবে। 


    পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, এধরনের উপকরণ যাতে কাজে লাগানো যায়, তারজন্য উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কোনও বাণিজ্যিক সংস্থাকে প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। 


    ভিসি বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়েই গবেষণা করা হয়। মশা সমাজের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। তা কীভাবে নিধন করা যাবে, তা নিয়ে গবেষণা করা হয়। তাতে সাফল্য মিলেছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। অনেক সময় ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেই পেটেন্ট এসেছে। তবে তা যখন সমাজের কাজে লাগবে, তখনই আমাদের বড় সাফল্য আসবে।
  • Link to this news (বর্তমান)