• ভাঙনের কবলে বেনাপুর পিকনিক স্পট বাগনানে আতঙ্কিত পর্যটক-বাসিন্দারা 
    বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া : নদীর তীরে বসে বিকেলের মনোরম সূর্যাস্ত দেখতেন পর্যটকরা। এছাড়া দিনভর প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে আসতেন বহু মানুষ। বাগনান দু’নম্বর ব্লকের মুগকল্যাণ গ্রাম পঞ্চায়েতের বেনাপুর গ্রাম এ কারণে বিখ্যাত। তবে নদী ভাঙনের কারণে বর্তমানে এই জায়গাই এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। তাঁদের বক্তব্য, নদী ভাঙন রোধে সেচদপ্তর এখনই উদ্যোগ না নিলে আগামিদিনে এই জায়গা পর্যটন মানচিত্র থেকে স্রেফ হারিয়ে যাবে। যা শোনার পর হাওড়া জেলা পরিষদের বক্তব্য, সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই সেচদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। 


    দক্ষিণ পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর ডিভিশনে বাগনান ষ্টেশনে নেমে কয়েক কিলোমিটার গেলেই পৌছে যাওয়া যায় বেনাপুরে রূপনারায়ণ নদীর চড়ে। এখানকার পরিবেশ শান্ত নিরিবিলি। প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি পিকনিকের মজা উপভোগ করতেও সারাবছর পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট থাকে এই অঞ্চল। প্রতিদিন বিকেলেও নদীর তীরে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান। তবে বর্তমানে নদী ভাঙন আতঙ্ক বাড়িয়েছে। শেখ আসগর নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই পিকনিক স্পটে বহু জায়গা থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন। কিন্তু যেভাবে নদী ভাঙছে তাতে সকলের আতঙ্ক বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নদী ভাঙন হচ্ছে। কয়েক মাস হল ভাঙন অনেক গুণ বেড়েছে।’ অন্যান্য কয়েকজনের আশঙ্কা, যেভাবে নদীর পাড়ের মাটি আলগা হচ্ছে তাতে যে কোনওদিন বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বর্ষার আগেই যেভাবে ভাঙছে নদী পাড় তাতে বর্ষা পুরোদমে শুরু হলে ভাঙন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে চিন্তায় রাতের ঘুম ছুটেছে সবার। মুর্তাজা মল্লিক নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘নদীর চড় ক্রমশ ভেঙে ভেঙে এগিয়ে আসছে। আগের বছর বর্ষার আগে ভাঙন ৫০ ফুট দূরে ছিল। এখন তা আরও এগিয়ে এসেছে। আমাদের দাবি, নদী ভাঙন রোধ করা হোক দ্রুত। জায়গাটিকে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্রের রূপ দেওয়া হোক।’ ভাঙনের কথা স্বীকার করে হাওড়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মানস বোস বলেন, ‘পিকনিক স্পট বাঁচানোর জন্য ইতিমধ্যেই সেচদপ্তরকে জানানো হয়েছে। জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধক্ষ্যকেও এলাকা ঘুরে দেখার কথা বলেছি। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই পিকনিক স্পটকে সাজানোরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)