• মেলেনি সরকারি ঘর, জন্মান্ধ ছেলেকে নিয়ে বর্ষার রাতে ভিজতে হয় বৃদ্ধাকে
    বর্তমান | ২৫ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কান্দি: মাটির দেওয়ালের উপর টালির ছাউনি। তবে চালের টালির কিছুই প্রায় আর অবশিষ্ট নেই। দেওয়ালের মাটিও ঝরে পড়ছে। মাটির ঘরের মাথায় ত্রিপল টাঙানো হয়েছে। কিন্তু তোড়ে বৃষ্টি হলে তাতে কাজ হয় না। জন্মান্ধ ছেলেকে নিয়ে সারারাত ভিজতে হয় বৃদ্ধা ফিরোজা বিবির। অথচ এরকম হওয়ার কথা ছিল না। কেন্দ্রীয় আবাস যোজনার তালিকায় নাম ছিল ফিরোজার। কিন্তু বিজেপি সরকারের বঞ্চনায় ঘর জোটেনি। বর্ষা বাদলের রাতে প্রতিবেশীদের বারান্দায় আশ্রয় চায়েও পান না। ঘটনা বড়ঞা ব্লকের শিমুলিয়া গ্রামের।


    স্বামী মারা যাওয়ার পর ফিরোজা বিবির পেট চলে ছোট্ট একটা দোকানের আয়ে। সে দোকানে বাচ্চাদের টুকটাক খাবার বিক্রি হয়। 


    এখনও বাড়ির আশায় বৃদ্ধা স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসনের কাছে বারবার ছুটে চলেছেন। তিনি জানান, স্বামী বেঁচে থাকলে সরকার বাড়ি না দিক না দিক, কোনও সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন আমার পেট চালানো পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না। ছোট্ট দোকান থেকে যা আয় হয় যা তা দিয়ে মা ছেলের পেটও চলে না। তাই বাড়ি তৈরির কথা চিন্তাও করতে পারি না। এরজন্য কেন্দ্রের সরকার দায়ী। আমাদের ছবি ওদের কাছে পৌঁছয় না।


    স্থানীয় বাসিন্দা ডাবলু শেখ বলেন, এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষেরই  অবস্থা ভালো নয়। তবে ওই বৃদ্ধার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তাই সরকার থেকে ওঁর ঘর পাওয়া উচিত ছিল। বৃদ্ধা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের মা ছেলেকে জেগে বসে থাকতে হয়। সামনেই বর্ষা। তাই প্রতিবেশীদের কাছে চারমাস থাকতে দেওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না। যদিও এক প্রতিবেশী গৃহবধূ বলেন, এতে অনেক সমস্যা আছে। ওঁকে থাকতে দিলে আর উঠবেন কিনা সন্দেহ আছে। তাছাড়াও ওঁদের থাকতে দেওয়ার মতো তেমন বাড়িও এই পাড়ায় কারও নেই।


    এ বিষয়ে স্থানীয় কুলি পঞ্চায়েত প্রধান জেসমিনা ইয়াসমিন বলেন, সত্যিই ওই পরিবারের অবস্থা করুণ। কেন্দ্র সরকার বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই ওই পরিবার আবাস যোজনার ঘর পাননি। তবে আমরা পঞ্চায়েতের তহবিলের টাকায় ওঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যর কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে যায়। ঘটনায় বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুলতানা খাতুন বলেন, গোটা বিষয়টি বিডিও সাহেবকে জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)