• কাঁথির মনোহরচকে বঙ্কিমচন্দ্রের মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণের আর্জি প্রশাসনকে
    বর্তমান | ২৫ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথিতে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পূর্ণাবয়ব মূর্তি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি উঠল। আগামীকাল, বুধবার ২৬ জুন বঙ্কিমচন্দ্রের ১৮৬তম জন্মদিবসকে সামনে রেখে এই দাবি তুলেছেন বঙ্কিম অনুরাগীরা। কাঁথি শহরের মনোহরচক এলাকায় অবস্থিত বঙ্কিমচন্দ্রের ওই পূর্ণাবয়ব মর্মর মূর্তির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ। বড়সড় এই মূর্তির কাছে আলোর ব্যবস্থা থাকলেও উপরে ছাউনি না থাকায় ঝড়বৃষ্টি, রোদে তা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া সামনে দিয়ে গিয়েছে ঢালাই রাস্তা। রাস্তা দিয়ে সবসময় ভারী গাড়ি চলাচলের কারণেও মূর্তিটির ভিত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি। বর্তমানে মূর্তির মাঝ বরাবর বড়সড় ফাটল ধরেছে। কাঁথি বঙ্কিমচন্দ্র স্মরণ সমিতি ও চর্চাকেন্দ্রের সভাপতি, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অমলেন্দুবিকাশ জানা বলেন, মূর্তিটির অবিলম্বে সংস্কার না হলে আগামীদিনে ভেঙে পড়তে পারে। মূর্তিটি রক্ষণাবেক্ষণ ও উপরে ছাউনির ব্যবস্থা করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আর্জি জানিয়েছি। আশা করছি, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। আমরা এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। 


    উল্লেখ্য, শহরের মনোহরচকের এই এলাকাটি সাহিত্য সম্রাটের স্মৃতিবিজড়িত। কথিত আছে, তিনি অবিভক্ত কাঁথি মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন দারিয়াপুরের পাশাপাশি এখানেও কর্মসূত্রে এসেছিলেন। এক ব্যক্তির বাড়িতে কিছুকাল বসবাস করেছিলেন। ২০১৩ সালে মনোহরচক এলাকায় বঙ্কিম অনুরাগীদের উদ্যোগে ঘটা করে পূর্ণাবয়ব মূর্তিটি স্থাপিত হয়। যার আবরণ উন্মোচন করেছিলেন তৎকালীন বিচারপতি শ্যামল সেন। বঙ্কিমের স্মৃতিকে আগলে রেখেছেন এলাকার বাসিন্দা এবং বঙ্কিম অনুরাগী মানুষজন। এলাকার একটি ক্লাবের নামকরণ করা হয়েছে ‘বন্দেমাতরম ক্লাব’। স্থানীয় শনিমন্দিরের কাছে একটি রাস্তার নামও দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্কিম সরণি’। মনোহরচকে রয়েছে কৃষ্ণকান্ত পুকুর বলে একটি বড় পুষ্করিণীও। জনশ্রুতি রয়েছে, বঙ্কিমচন্দ্র এখানে বসেই তাঁর ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের পটভূমি রচনা করেছিলেন। তারপর থেকে স্থানীয় ওই পুষ্করিণীটি কৃষ্ণকান্ত পুকুর বলে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এভাবে সাহিত্য সম্রাটের স্মৃতি বয়ে নিয়ে চলেছে মনোহরচক। স্থানীয়দের দাবি, মূর্তিটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাহলে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ ব্যাপারে কাঁথির মহকুমা শাসক সৌভিক ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি জানা নেই। নিশ্চয়ই খোঁজখবর নিয়ে দেখব। সেরকম হলে আমরা সমিতির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।
  • Link to this news (বর্তমান)