• খড়্গপুরে চাকরির নামে বেকার যুবকদের লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা
    বর্তমান | ২৫ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুরে অফিস খুলে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠল। জানা গিয়েছে, যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে এই সংস্থার অফিস খোলা হয়। এনিয়ে খড়্গপুর টাউন থানায় অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তও শুরু করেছে পুলিস। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদেশে চাকরির টোপ দিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের বেকার যুবকদের প্রতারণা করা হয়। হাতিয়ে নেওয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। পরে অফিস বন্ধ করে চম্পট দেয় প্রতারকরা। এদিকে বিদেশে চাকরি করতে যাওয়ার জন্য দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়ে বেকার যুবকরা জানতে পারেন, তাঁদের দেওয়া বিমানের টিকিট নকল। খড়্গপুরে ফিরে এসে দেখেন, সেই অফিসও বন্ধ। এরপরই তাঁরা পুলিসের দ্বারস্থ হন। সূত্রের খবর, এই রাজ্য সহ বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড সহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় দু’শো জন যুবক এদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ, চাকরি করে দেওয়ার নাম করে তাদের প্রত্যেকের থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীর নাম পরিচয় জানাতে চায়নি পুলিস। জানা গিয়েছে, মাস কয়েক আগে কয়েকজন ব্যক্তি খড়্গপুরের ইন্দা এলাকায় একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে ঘর ভাড়া নেয়। সেখানে তারা ‘ব্রাইট ফিউচার কনসালটেন্ট’ নামে সংস্থার অফিস খোলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদেশে চাকরির টোপ দেওয়া হয়। তা দেখে বিভিন্ন রাজ্যের বেকার যুবকরা যোগাযোগ করেন। বিহারের বাসিন্দা সাকির আনসারি সহ একাধিক যুবক জানান, তাঁরা চাকরির জন্য অন লাইনে যেমন টাকা দিয়েছেন, তেমনই নগদ টাকাও দিয়েছেন। সেই মতো তাঁদের নিয়োগপত্র ও বিদেশ যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট দেওয়া হয়। কারও ইরাকে, কারও আবার মালয়েশিয়া, ইরানে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ সাজেদ আনসারি বলেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে অফিস বন্ধ করে পালিয়ে গিয়েছে।  


    চাকরি প্রার্থীরা বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরে গেলে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বিমানের যে টিকিট তাঁদের দেওয়া হয়েছে তা নকল। এরপর তাঁরা অফিসের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তখনও আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু পরে সেই ফোন বন্ধ হয়ে যায়। খড়্গপুরে এসে দেখে ইন্দার সেই অফিসও তালা বন্ধ। সেখানে কমপ্লেক্সের মালিকও অতিরিক্ত তালা লাগিয়ে দিয়েছে। যে দু’টি ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছিল সেগুলিও বন্ধ। 


    কমপ্লেক্সের মালিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আগে থেকে কিছুই জানতে পারিনি। তারা ‘ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস কনসালটেন্সি’ অফিস খুলবে বলে ভাড়া নেয়। কয়েক  মাস চলার পর আর অফিস খোলেনি। মাস তিনেক ভাড়াও পাইনি। তাই তালা লাগিয়ে দিয়েছি। ওরা উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছিল। এখন এইসব শুনছি। পুলিসও তদন্তে এসেছিল।  
  • Link to this news (বর্তমান)