• ঠান্ডা মাথায় খুন করে ছিন্নভিন্ন করা হয় দেহ
    বর্তমান | ২৫ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, পতিরাম: ঠান্ডা মাথায় খুন করে ট্রাক্টরের রোটাভেটরে ছিন্নভিন্ন করে দেহ। খুনের বিষয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল বলে অনুমান। তাই নৃশংস খুন করে নিজের বাড়িতেই স্বাভাবিক ছিলেন সাদ্দাম সরকার বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে পুলিস এখনও খুনের মোটিভ জানতে পারেনি। তবে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের তত্ত্বই ক্রমশ জোরাল হচ্ছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। 


    সোমবারও তপনের কালিকাপুর গ্রামের কৃষিজমিতে ছিন্নভিন্ন করা বাকি দেহাংশের খোঁজে পুলিস তল্লাশি চালায়। এদিনও বেশকিছু দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে গতি আনতে মঙ্গলবার জেলায় আসছে ফরেন্সিক টিম। ওই টিম এসে অভিযুক্তের খামারবাড়ি থেকে শুরু করে সর্বত্র তল্লাশি চালাবে। এদিকে পরিবারের দাবি, ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছে। এনিয়ে তারা রবিবার পথ অবরোধের পর নতুন করে ধর্ষণের অভিযোগপত্র থানায় জমা করেছে। পুলিস সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে। 


    দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিস সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, ধৃতকে ১০ দিনের পুলিস রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনের মোটিভ জানার জন্য তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার ফরেন্সিক টিম এসে ঘটনাস্থলে তদন্ত করবে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


    এদিকে মৃত বধূর ভাই বলেন, আমাদের অনুমান  দিদিকে ধর্ষণ করে তারপর খুন করা হয়েছে। পুলিসের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিস প্রথমে অভিযোগ নেয়নি। আন্দোলনের পরে আমরা ফের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা চাই এই খুনের সঙ্গে আর কে জড়িত এবং কেন খুন করা হল, তা তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করুক পুলিস। 


    পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সাদ্দাম সরকারের বাড়িতে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। ট্রাক্টরটি রয়েছে তার দাদার নামে। সেই টাক্টর দিয়ে চাষের কাজ করা হয়। চাষের কাজে নানা সময়ে নানা জায়গায় যায় সাদ্দাম। সেই সূত্র ধরেই পশ্চিম নিমপুরের ওই বধূর সঙ্গে তার আলাপ হয়। ওই বধূর স্বামী ভিনরাজ্যে কাজ করেন। বধূর সঙ্গে সাদ্দামের ফোনালাপ চলত। এমনকী সে বধূর বাড়িতেও যেত। বধূর দুই নাবালক ছেলেও তাকে চেনে। মৃতার ভাইয়ের অভিযোগ, একা থাকার সুযোগে কুপ্রস্তাব দেয়, রাজি না হওয়াতেই ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। 


    পুলিস জানিয়েছে, ১৮ মে বিকেল থেকে বধূ নিখোঁজ ছিল। সেই রাতেই খুন করা হয়েছে বলে অনুমান। পরের দিন ঠান্ডা মাথায় ট্রাক্টরের রোটাভেটার দিয়ে দেহাংশ ছিন্নভিন্ন করা হয়। তবে দেহের অর্ধেক অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। জমির অনেকটা জায়গাতেই দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। জমির খানিকটা অংশে জল ছিল। সেই জলসেচ করে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। 


    উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে জমিতে লাঙল দিতে গেলে ওই বধূর পা উদ্ধার হয়। ওই পা দেখেই বধূর ছেলে ও পরিবার চিহ্নিত করে। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সিপিএমের ভারপ্রাপ্ত জেলা সম্পাদক নন্দলাল হাজরা সহ অন্যান্যরা। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।  মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)