• সরকারি জমি উদ্ধার ও পরিষেবার মান বাড়াতে বৈঠক মহকুমা শাসকের সঙ্গে
    বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পুরসভাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে রণমূর্তি ধারণ করেছিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিষেবা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রকাশ্যে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের আধিকারিকদেরও একহাত নেন। তারপরেই নড়েচড়ে বসেছে পুরসভাগুলি। যার মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণনগর পুরসভাও। বৈঠকের পরেই সরকারি জমি জবরদখল মুক্ত করা থেকে শুরু করে শহরের পরিছন্নতা ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয়েছে তারা। মঙ্গলবার পুর কর্তৃপক্ষ ও কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসকের মধ্যে বৈঠক হয়। উল্লেখ্য, গোটা নদীয়া জেলাজুড়ে সরকারি জমি কতটা রয়েছে তার ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি স্কুল ও উন্নয়নমূলক সংস্থার জমির পরিমাণ এক জায়গায় করা হচ্ছে। 


    কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, কৃষ্ণনগর পুরসভার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহরকে কীভাবে আরও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পুরসভার কোন জায়গা দখল হয়ে আছে তা নিয়ে কথা হয়েছে। 


    প্রসঙ্গত, আবাসনের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ পরিষেবার শংসাপত্র পেয়েছে কৃষ্ণনগর পুরসভা। কিন্তু পানীয় জল সরবরাহ থেকে শুরু করে শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে পিছিয়ে রয়েছে এই শহর। শুধু তাই নয়, পুরসভার জায়গা দখল করে শহরজুড়ে গজিয়ে উঠেছে বিভিন্ন নির্মাণ। বিশেষ করে শহরের ফুটপাত চলে গিয়েছে হকারদের দখলে। ছোটবড় দোকান তৈরির কারণে সংকীর্ণ হয়েছে মানুষের হাঁটার জায়গা। যার ফলে শহরে যানজট বাড়ছে। ‌শুধু ফুটপাত নয়, দোকান উঠে এসেছে রাস্তার উপরেও।‌ দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার নির্মাণও যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে। প্রোমটারদের দাপটে কংক্রিটের ভিড়ে ব্যহত হচ্ছে পরিষেবা। যদিও তাতে শাসকদলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদত রয়েছে বলেই শোনা যায়।‌ এমনকী অবৈধ নির্মাণ থেকে কমিশন ঢোকে নেতাদের পকেটেও। এই বিষয়গুলি নজর এড়ায়নি মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘কেউ টাকা দিচ্ছে। কেউ টাকা নিচ্ছে। লোভ বেড়ে যাচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি কারও ব্যক্তিগত নয়।’ পুরসভার জায়গা দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এদিনের বৈঠকে। সেইমতো যারা জায়গা দখল করে আছে তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। শহরে মাইকিং করে দখল মুক্ত করার বিষয়টি জানানো হবে। পাশাপাশি কোথায় কোথায় জমি দখল হয়েছে তার সমীক্ষা চালাবে পুরসভা। 


    শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়েও এদিন আলোচনা হয়। নিয়মিত ওয়ার্ড ভিত্তিক আবর্জনা সংগ্রহ করা হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে মহকুমা শাসক খোঁজ নেন।‌ শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে কোনওরকম আপোস যাতে না করা হয় সেদিকে নজর দিতে বলেন। কারণ শহরে আবর্জনা সমস্যা নতুন নয়। 


    অনিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে শহরবাসীর। এমনকী শহরের বিভিন্ন ছোট ডাম্পিং গ্রাউন্ডে অনেক বেলা পর্যন্ত আবর্জনা পড়ে থাকে বলে অভিযোগ শহরবাসীর। 


    পুরসভা চেয়ারম্যান রীতা দাস বলেন, জন পরিষেবা ভালো করতে কৃষ্ণনগর পুরসভা সব সময় কাজ করছে। কী করে তা আরও ভালো করা যায় সেই দিকেই নজর দিচ্ছি। উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর পুরসভায় এবারও বিজেপির ফল ভালো হয়েছে। শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টিতেই বিজেপি লিড নিয়েছে। শহরের লোকসভা ভোটে মুখ পুড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। 
  • Link to this news (বর্তমান)