সংবাদদাতা, চাঁচল ও কালিয়াচক: বর্ষা এলেও বৃষ্টির দেখা নেই। যার জেরে মালদহের বিভিন্ন ব্লকে কৃষিকাজ করতে গিয়ে সমস্যা পড়তে হচ্ছে চাষিদের। আগামী এক সপ্তাহ বৃষ্টি না হলে ফসলে প্রবল ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। ঢ্যাড়স, পটল, বেগুন, করলা ও শসা সহ বিভিন্ন সব্জিতে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। সবথেকে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন ভুট্টা ও পাটচাষিরা। অনেকে বেশি টাকা খরচ করে ফসল বাঁচাতে সেচ করছেন জমিতে। এইভাবে চলতে থাকে লাভের মুখ দেখা যাবে না বলে চাষিরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টির অভাবে পাট সহ সব্জিতে পোকার আক্রমণ ঘটতে পারে। এজন্য কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চলতি মরসুমে চাঁচল ১ ব্লক এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এক হাজার হেক্টর জমিতে সব্জি চাষ হচ্ছে বলে কৃষি দপ্তর জানিয়েছে। মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জাহাঙ্গীর আলমের কথায়, এক বিঘে জমিতে বেগুনের চারা লাগানো হয়েছে। জলের অভাবে মাটি ফেটেছে, চারাগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে লোকসান হবে। গৌড়িয়ার রুহুল আমিন বলেন, আমন চাষের জন্য এখন বীজ ফেলার সময়। কিন্তু জমিতে জল নেই। বেশি টাকা খরচ করে স্যালো মেশিন লাগিয়ে জল দেওয়া হচ্ছে জমিতে। এভাবে চাষ করলে লাভ হবে না। পাট চাষি সলেমান আলির কথায়, বৃষ্টি হলে পাটগাছের আঁশ মোটা হত। এবার মনে হয় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। চাঁচল ১ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা দীপঙ্কর দেব বলেন, অনাবৃষ্টির জেরে ফসলে পোকার আক্রমণ ঘটতে পারে। চাষিদের কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কালিয়াচকের বিভিন্ন মৌজার মাঠে ঝলসে যাচ্ছে ভুট্টা ও পাট গাছ। চাষিদের দাবি, তাপপ্রবাহের ফলে এই অবস্থা। চলতি মরশুমে আষাঢ়ের বর্ষণমুখর দিনের স্মৃতি উধাও। শেষ কবে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি দেখা গিয়েছে তাও মনে করতে পারছেন না এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা আলিউল শেখ বলেন, ধার দেনা করে পাট চাষ করেছি। কিন্তু আবহাওয়ার যা অবস্থা, তাতে লোকসান হবে। সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি। পারদেওনাপুরের চাষি আশরাফুল হক জানাচ্ছেন,তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। বৃষ্টি না হওয়ায় গাছ ঝলসে গিয়েছে। কালিয়াচক ৩ ব্লকের সহ কৃষি আধিকারিক অভিষেক লাবার বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ফসলে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনার খবর শুনেছি। সরেজমিনে গিয়ে তার রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে।