• জুন শেষেও বর্ষা-বঞ্চিত দক্ষিণবঙ্গের বহু এলাকা
    বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জুন মাসের শেষলগ্নে এখনও দক্ষিণবঙ্গের অর্ধেকের বেশি এলাকায় বর্ষা ঢোকেনি। মৌসুমি বায়ুর অন্য প্রান্ত কিন্তু  মহারাষ্ট্র, গুজরাত হয়ে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এমনকী পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ছুঁয়ে ফেলেছে। বর্ষার এরকম মতিগতি কেন? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আরব সাগরের প্রান্তের মৌসুমি বায়ু এবার বেশি সক্রিয়। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রান্ত সেরকম সক্রিয় নয়। তাই উত্তর-পশ্চিম ভারতের বেশি অগ্রসর হচ্ছে বর্ষা। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক সময় ১০ জুন। তার ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও দক্ষিণবঙ্গের পুরো অংশে এখনও বর্ষা প্রবেশ করেনি। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে মে মাসের শেষে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের ধাক্কায় বর্ষার আগাম আগমন হয়েছিল উত্তর-পূর্ব ভারত ও উত্তরবঙ্গে। রেমালের রেশ কাটতেই বঙ্গোপসাগরের দিকে বর্ষার অগ্রগতি থমকে যায়। বেশ কিছুদিন একই জায়গায় আটকে থাকার পর গত শুক্রবার ২১ জুন উত্তরবঙ্গের বাকি অংশের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় বর্ষার প্রবেশ হয়। তবে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের যে অংশে বর্ষা ঢুকেছে, সেখানেও বিক্ষিপ্তভাবে হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছে। গত দু’দিনে বৃষ্টির মাত্রা আরও কমে গিয়েছে! আবহাওয়া অধিকর্তা জানান, এরকম পরিস্থিতি আজ বুধবারও থাকবে। বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তখন থেকে কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে ‘ফেয়ারলি ওয়াইড স্প্রেড’ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে আপাতত শনিবার পর্যন্ত। কোনও কোনও স্থানে অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রদেশ থেকে অসম পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। এটির আরও কিছুটা নীচে নামলে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বাড়বে। জুন মাসের শেষদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা।
  • Link to this news (বর্তমান)