ফুটপাত, সরকারি জায়গা জবরদখল মুক্ত করতে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ
বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় বেআইনিভাবে ফুটপাত বা সরকারি জমি দখল করে দোকান চলছে। সোমবার এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজপুর সোনারপুর কিংবা ডায়মন্ডহারবার পুরসভাতেও এই ছবি ধরা পড়েছে। সেখানে বিভিন্ন জায়গায় কোথাও ফুটপাত দখল করে চলছে দোকানপাট, কোথাও আবার সরকারি জায়গা কব্জা করে রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা। ইতিপূর্বে বহুবার পুরসভার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উঠলেও বাস্তবে তা হয়নি। তবে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তারপরেই নড়েচড়ে বসেছে পুর কর্তৃপক্ষগুলি। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাস বলেন, কোথায় কী অবস্থা রয়েছে, সেটা জেনে বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। ডায়মন্ডহারবার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাসের কথায়, ফুটপাত, নয়ানজুলি ইত্যাদি জায়গা যদি কেউ বেআইনিভাবে দখল করে রাখে, তাহলে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প জায়গা দেখা হয়েছে। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার কামালগাজি থেকে সোনারপুর স্টেশন যেতে বিভিন্ন জায়গায় ফুটপাতে দখলদারির ছবি ধরা পড়ল। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মুরগির মাংসের দোকান দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষের সেই সব জায়গা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। অগত্যা রাস্তার উপর দিয়েই চলাফেরা করতে হয় তাদের। একই ছবি বাইপাসের ধারেও। সেখানেও রাস্তার দু’ধার জবরদখল হয়ে গিয়েছে। গড়িয়া অঞ্চলে আবার ফুটপাতের একাংশ ফলের দোকানদারদের দখলে। কোনওরকমে লোক চলাচল করতে পারে, সেরকম সামান্য জায়গা কৌশল করে ছেড়ে রেখেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, কামালগাজি ফ্লাইওভারের নীচে খালের দুই ধারে সেচদপ্তরের জমিও জবরদখল করে দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
এদিকে, ডায়মন্ডহারবারে ফেরিঘাট থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত ফুটপাত হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, ৯-১২ নম্বর এবং ২ এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে যে নয়ানজুলি গিয়েছে, তার ধারও জবরদখল হয়ে রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন পুরকর্তারা। এই সব জায়গা দখল মুক্ত করার জন্য আগে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হবে। সেটা তাঁরা না মানলে পরে পুলিসের সাহায্যে জায়গা খালি করার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। তাঁর স্পষ্ট কথা, বেআইনিভাবে কোনও জায়গা দখল করতে দেওয়া হবে না। তবে এটাও ঠিক যে, যাঁরা বহু বছর ধরে হকারি করে সংসার চালাচ্ছেন, তাঁদের বিকল্প জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থার জন্য উদ্যোগ নেবে পুরসভা। পারুল ভবন নামে একটি জায়গাকে এর জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।