চা খেয়েছেন সেলিব্রিটিরাও, ফুটপাতের সেই ৪০ বছরের দোকান ভাঙা পড়ল সল্টলেকে
বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: জেসিবি মেশিন চলে এসেছে। গরমে আর মেশিনটি দেখে দরদর করে ঘামছেন। নরম গলায় বললেন, ‘স্যার, একটু দাঁড়ান’। পুলিসের কাছে এই অনুরোধ জানিয়ে তাড়াহুড়ো করে দোকান থেকে বের করলেন পাখা, গামলা, কেটলি, জলের জগ। তারপর তাঁর চোখের সামনে সাধের দোকানটি গুঁড়িয়ে গেল। আর সহ্য করতে পারলেন না। ফুটপাতের উপর দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললেন ৬৫ বছরের দীপক পাল। টলিউডের তারকা, নামী অ্যাথলেট, ফুটবলার সহ বহু সেলিব্রিটিকে নিজের হাতে তৈরি করে চা খাইয়েছেন তিনি। ক্রেতাদের মাথায় ছায়া দিতে ফুটপাতের ধারে বসিয়েছিলেন বট-অশ্বত্থ। সল্টলেকে ফুটপাতের উপর তাঁর সেই দোকানটি গুঁড়িয়ে গেল। ৪০ বছর আগে দোকানটি বসিয়েছিলেন তিনি। বর্তমান জবরদখলের তালিকায় সে দোকানের নামও উঠে যাওয়ায় রেহাই পেলেন না। মঙ্গলবার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় গলাভার হয়ে এল তাঁর।
সল্টলেকের কেবি ব্লকের ফুটপাতে চায়ের দোকান ছিল দীপকবাবুর। মঙ্গলবার জবরদখলকারীদের সরাতে অভিযান চালায় বিধাননগর পুরসভা ও পুলিস। দীপকবাবুর দোকানও ভাঙা পড়ে। নিজের বসানো গাছের তলায় দাঁড়িয়ে বলেন, আমার দমদমে বাড়ি। ১৯৮৩ সালে এখানে এসে চায়ের দোকান করি। তখন আশপাশে জঙ্গল ছিল। স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার সামনে দোকান ছিল বলে কতজন আসত। সেলিব্রেটিদের চা খাইয়েছি। আমার দুই ছেলে এবং মেয়ে। ছোট ছেলে একটি নামী অ্যাকাডেমির গোলকিপার ছিল। সিঙ্গাপুরেও খেলতেও গিয়েছিল। কাজ নেই বলে এখন আমার সঙ্গে চায়ের দোকানে থাকে। এবার বাবার সঙ্গে ছেলেও বেকার হয়ে গেল।
তাঁর বট ও অশ্বত্থ গাছ এখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। গাছের শাখা-প্রশাখায় ভরা চত্বরটি। খর দুপুরেও তাঁর দোকানে ছায়া থাকে। আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বললেন, এই বটের চারাটা কিছুটা দূরে ছিল। আমি তুলে ফুটপাতের ধারে লাগিয়েছিলাম। তারপর অশ্বত্থ গাছ। দু’টোকে এতগুলো বছর ধরে যত্ন করেছি। আজ আমার দোকানটাই নেই। কিন্তু এই গাছগুলো থেকে যাবে। বলতে বলতে ছলছল করে উঠল তাঁর চোখ। তাঁর দোকান ভেঙে পড়ছে অনেকেই দেখেছেন সে দৃশ্য। তবে দীপকবাবুর বুকের ভিতরে একটি বড়সড় ক্ষত তৈরি হয়েছে, সেটি অবশ্য টের পাচ্ছেন একা দীপক নিজে।