• তাপমাত্রার সঙ্গে চড়ছে সব্জির মূল্যও বাজারে গিয়ে মধ্যবিত্তের পকেট খালি
    বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বহরমপুর: চড়া রোদ। থার্মমিটারের পারদের নীচে নামার লক্ষণ নেই। আকাশে বিক্ষিপ্ত মেঘ জমলেও বৃষ্টির দেখা নেই। সব্জি চাষ করে গাছ বাঁচিয়ে রাখতে চাষিরা গলদঘর্ম। সব মিলিয়ে মধ্যবিত্তের পকেটে চাপ বাড়ছে। হেঁশেলে সব্জির আকাল দেখা দিতে শুরু করেছে। আলু, পটল, ঝিঙে, করলা, ঢ্যাঁড়শ সবেরই দাম ঊর্ধ্বমুখী। এমনকী পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লঙ্কার দামও হু হু করে বাড়ছে। স্বস্তির মধ্যে একমাত্র টমেটোর দাম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে সেঞ্চুরিতে নেমেছে। তবে বেগুনে আগুন লেগেছে। বাজার এসে মধ্যবিত্তদের ব্যাগ ভরছে না। ঝোলা ভরার মতো সস্তার কোনও সব্জি নেই। পুঁইশাকও মহার্ঘ্য। সব্জির অগ্নিমূল্যের থেকে রেহাই পেতে চাষি থেকে সাধারণ মানুষ সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে। 


    গত দু’ সপ্তাহ থেকে ফের সব্জির দাম বাড়তে শুরু করেছে। মধ্যবিত্তের হেঁশেলে সব্জির টান মেটায় আলু। গত দু’ দিনে সেই আলুর দাম কেজিতে সাত টাকা বেড়েছে। বহরমপুরের বিভিন্ন বাজারে হাইব্রিড পোখরাজ ৩২-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। জ্যোতি, চন্দ্রমুখী সাধারণ মানুষের প্রায় নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। আষাঢ় মাসে পটলের দাম সর্বনিম্ন হয়। এবার আষাঢ়ে পটল ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে ৪০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়শ ৪০, পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে বুধবার। বেগুনের দাম সেঞ্চুরির আশপাশে ঘুরছে। এদিন ৮৫ টাকা কেজি দরে বেগুন বিকিয়েছে। আদা, রসুনের দাম দুশো টাকার নীচে নেমে এসেছিল। এক সপ্তাহে আদা, রসুনের দাম ফের আড়াইশো টাকা কেজিতে উঠে এসেছে। গরমে উৎপাদনে ঘাটতি হওয়ায় লঙ্কার ঝাঁজও বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে মিষ্টি কুমড়ো বিক্রি হয়েছে ১২ টাকা কেজি দরে। বুধবার তার দাম ১৮-২০ টাকা ছুঁয়েছে। সব্জির বাজারে একমাত্র টমেটোর দাম কমেছে। দিন কয়েক আগে কেজি প্রতি টমেটোর দাম ছিল দুশো টাকার উপর। বুধবার ১২০ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি হয়েছে।


    বহরমপুর স্বর্ণময়ী বাজারের সব্জি বিক্রেতা দীনেশ মণ্ডল বলেন, সব্জির বাজারে খদ্দের কম। যাঁরা আসছেন তাঁরাও সব্জিতে কাটছাট করছেন। খুচরো বিক্রেতাদের আয় কমেছে। বড়ঞার সব্জি চাষি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, বেগুন, লঙ্কা, পটল, ঝিঙের গাছ টিকিয়ে রাখায় দায় হয়েছে। রোজ দু’ বেলা পরিচর্যা করতে হচ্ছে। তাতেও গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বহরমপুর স্বর্ণময়ী বাজারে বাজার করতে এসেছিলেন বিবেকানন্দ পল্লির রাজীব শীল। রাজীববাবু বলেন, এই পরিস্থিতি চললে সাধারণ মানুষকে সব্জি খাওয়া ভুলতে হবে। পাইকারি ও খুচরো বাজারে সরকারি নজরদারি আবশ্যিক হয়ে পড়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)