• বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর
    বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বৃহস্পতিবার দুপুরে আসানসোলের ভগৎ সিং মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ ঘিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় হাসপাতালে। পুলিস পরিস্থিতি আয়ত্বে আনতে চাইলে তাদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন রোগীর আত্মীয়রা। শেষে কোনও রকমে হাসপাতালের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ঠেকায় পুলিস। বিক্ষোভকারীরা এরপর হাসপাতালে সামনেই ধর্নায় বসে পড়েন। বিকেল পর্যন্ত চলে সেই ধর্না। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম দিলীপ পাসি (৫২) বাড়ি আসানসোল পুরসভার ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাকরাসোতা এলাকায়। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে। সিএমওএইচ শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, আমাকে লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


    ইস্কোর ঠিকা শ্রমিক ছিলেন দিলীপ। তাঁর আত্মীয়দের দাবি, সর্দি-কাশির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রবিবার। আমরা একজন চেস্ট স্পেশালিস্টের অধীনেই রোগীকে ভর্তি করতে চেয়েছিলাম। হাসপাতাল থেকে বলা হয়, তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। আপনাদের রোগীকে তাঁর অধীনেই ভর্তি করা হচ্ছে। কিন্তু একদিন পরও সেই চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। মঙ্গলবার এনিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একপ্রস্থ ঝামেলা হয়। মৃতের আত্মীয় আদিত্য কুমার চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার আমরা যখন রোগীকে রেফার করাতে চাই, তখন তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে বলে ভেন্টিলেশনে দিয়ে দেয়। যে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলাম তিনি মঙ্গলবার আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি নিজে বলেছেন, তিনদিন তিনি ছুটিতে ছিলেন। তাহলে কেন আমাদের মিথ্যা বলে রোগীকে ভর্তি করানো হল। যার অর্থ, বিনা চিকিৎসায় আমাদের রোগী মারা গিয়েছেন।   


    দিলীপবাবুর এক ছেলে ও এক মেয়ে। গত ১৭ জুন, সোমবার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। নানা অনিয়মে সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হন বলে পরিবারের দাবি। রবিবার তাঁকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে পরিবার পরিজন তাঁকে নিয়ে হাসপাতাল আর ঘর ছোটাছুটি করছেন। বাবাকে হারিয়ে এদিন রাস্তায় লুটিয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে সদ্য বিবাহিত মেয়ে পুজা পাসিকে। তাঁকে সামলাতে গিয়ে  কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পিঙ্কি পাসি। তিনি মৃতের ভাগ্নি। এদিন ওই হাসপাতালে এক রোগী ভর্তি হতে এলে তাঁর কাছে ছুটে  গিয়ে পিঙ্কি-পুজারা বলেন, এখানে ভর্তি করবেন না। এখানে ডাক্তার না থাকলেও রোগী ভর্তি করে নেয়। আপনার রোগী মারা যাবে। এলাকায় দিলীপবাবু অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। নাকরাসোতা গ্রামের বহু মানুষ এদিন দিনভর হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভ উগরে দিতে থাকেন। স্থানীয় কাউন্সিলার অনুপ মাজিও হাসপাতালে আসেন। তিনি বলেন, অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। -নিজস্ব চিত্র 
  • Link to this news (বর্তমান)