অন্ধকারে রেখেই পরিকল্পনা রূপায়ণ, ক্ষোভে সভা ছাড়লেন জেলা পরিষদের সদস্যরা
বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সদস্যদের অন্ধকারে রেখেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এমনই অভিযোগ তুলে সদস্যদের অনেকেই বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের সভা কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। এদিন পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জেলা পরিষদে জেনারেল মিটিং ডাকা হয়। প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে মিটিং চলাকালীন বচসায় জড়িয়ে পড়ে জেলা পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে কর্মাধ্যক্ষদের একাংশ। সভাধিপতির উপর ক্ষোভ উগড়ে দেয়। কয়েকজন সভা ছেড়ে বেরিয়ে আসে। দুপুরের দিকে ওই ঘটনায় ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনুপ কুমার দত্ত এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। তারপর সদস্যরা ফের মিটিংয়ে শামিল হন। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের দাবি, কাজ নিয়ে সদস্যদের ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছিল। তা মিটে গিয়েছে।
জেনারেল মিটিংয়ে ঝামেলা প্রসঙ্গে সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরকে ফোন ও মেসেজ করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি। অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় কাজ নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তারপর সবকিছু মিটে যায়। আমরা আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে টেন্ডার ঝুলিয়ে কাজ শুরু করতে চলেছি। শৌচালয়, পানীয় জল সহ বিভিন্ন কাজ যাতে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে করা যায় সেই দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ১৫ কোটি টাকা এসেছে। যার ৪০ শতাংশ টাকা রাস্তা, ড্রেন, লাইট সহ বিভিন্ন কাজে লাগানো হবে। বাকি ৬০ শতাংশ পানীয় জল, স্যানিটেশন সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হবে। সেইমতো প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেনারেল বডির মিটিংয়ে সদস্যদের সম্মতি নিয়ে সেই তালিকার কাজ চূড়ান্ত করার কথা ছিল। সেইমতো সদস্যরা জেলা পরিষদের সভাঘরে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু, বৈঠক শুরু হতেই সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, আগাম কোনও কিছু না জানিয়েই ‘নতুন নিয়মে’ কাজের তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, তাঁদের আলাদা কোনও বসার জায়গা নেই। এমনকী উপাধ্যক্ষেরও বসার জায়গা নেই। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষদের জন্য বাথরুমের বেহাল দশা। ফাঁকা ঘর থাকা সত্ত্বেও তা বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। এরকম নানা ইস্যুতে সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা পরিষদের দলনেতা দীপক বসু বলেন, সদস্যদের কিছু ক্ষোভ রয়েছে। তারই বহিঃপ্রকাশ এদিন ঘটেছে। এনিয়ে কয়েকদিন আগেও আমরা মিটিং করেছিলাম। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করব। আগামীতেও ফের একটা মিটিং করা হবে।