সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: লাঠি হাতে ঘুরছেন গ্রামের বাসিন্দারা। চিতাবাঘের আতঙ্কে তাঁরা কৃষিজমিতে যাচ্ছেন না। অনেকে আবার ভয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। এমনই পরিস্থিতি ময়নাগুড়ির খাগড়াবাড়ি ২ পঞ্চায়েতের বাসিলারডাঙ্গা গ্রামে। একাংশ বাসিন্দার দাবি, তাঁরা স্থানীয় একটি চা বাগানে স্বচক্ষে পূর্ণবয়স্ক দু’টি চিতাবাঘ সহ কয়েকটি শাবক দেখতে পেয়েছেন। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ময়নাগুড়ি থানার পুলিস। বাসিন্দাদের দাবি, বনদপ্তরের পক্ষ থেকে এলাকায় খাঁচাপাতা হোক।
বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসিলাডাঙ্গায় বুধবার বিকেল দীপু দাস এক বাসিন্দা প্রথমে দু’টি চিতাবাঘ দেখতে পান। কিছু সময়ের পর তিনি কয়েকটি শাবককে দেখতে পান। এরপর তিনি এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী খুশি মোহন বৈরাগীকে ফোন করেন। খবর জানাজানি হতেই প্রচুর লোকজন রাতেই চা বাগানের সামনে ভিড় জমান। প্রমথ মোদক নামে আরও এক বাসিন্দাও বুধবার রাতে স্বচক্ষে দু‘টি চিতাবাঘ দেখতে পান। পরবর্তীতে খুশি মোহনবাবুও চিতাবাঘের তিনটি শাবককে চা বাগানের জমির সামনে দেখতে পান। তাই এলাকায় চিতাবাঘের আতঙ্ক জাঁকিয়ে বসেছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করলে বাসিন্দারা হাতে লাঠি রাখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রমোদ মোদক বলেন, আমাদের এলাকায় চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বুধবার প্রথমে একজন চিতাবাঘ দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে আমি ওই ব্যক্তির বাড়ির সামনে যাই। আমি চা বাগানের পাশে তাকাতেই দেখতে পাই দু’টি চিতাবাঘ শুয়ে রয়েছে। এরপর আমিও চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করি। পরবর্তীতে দুটি শাবককে দেখতে পাই। বর্তমানে আমরা গবাদিপশু জমিতে নিয়ে যাচ্ছি না। আতঙ্কে রয়েছি। আমরা চাইছি বনদপ্তর কিছু ব্যবস্থা করুক। বনদপ্তরের রামসাই রেঞ্জের আধিকারিক প্রিয়া তামাং বলেন, ঘটনার খবর শুনেছি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। ওই চা বাগানের সামনে সন্ধ্যার পর যেন কেউ না যান।