• শহরের কেন্দ্র ধর্মতলা ‘ব্লক’ করা যায় না, এটা বুঝতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী
    বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের কেন্দ্রস্থল ধর্মতলা ‘ব্লক’ করা যায় না, এটা বুঝতে হবে। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে এই মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেস যে সেখানে সভা করে সেটা আলাদা ব্যাপার। ওখানে ১৩ জন খুন হয়েছিলেন। তাই আমরা বছরে একটাই কর্মসূচি করি। খাদ্য আন্দোলনের স্মরণে বামেরা যে অনুষ্ঠান ওখানে করে তাতেও যে সরকার আপত্তি করে না সেটাও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রাজভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তখন সেখানে ১৪৪ ধারা কার্যকর ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন। এটা নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। আমরা যেটা করব সেটা ওদেরও করতে হবে! দিল্লিতে কি কিছু করতে দেয়? এমনকী, লোকসভার স্পিকার নির্বাচনে ভোট করতে দেওয়া হয় না। 


    ধর্মতলা মোড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও রাজভবনের সামনে অবস্থান করা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে। ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি করে, হাইকোর্টের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সেখানে দু’বার সভা করেছে বিজেপি। রাজভবনের সামনে অবস্থান করা নিয়ে বিজেপির মামলার শুনানি চলছে হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবারও বিচারপতি অমৃতা সিনহার আদালতে মামলাটি উঠেছিল। রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়, আগামী রবিবার ৪ ঘণ্টার জন্য রাজভবনের সামনে অবস্থান করলে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু বিজেপির পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, আগামী রবিবার পূর্ব নির্ধারিত অন্য কর্মসূচি থাকায় এটা সম্ভব নয়। রাজ্য সরকারের আইনজীবী তখন বলেন, অন্য রবিবারে কর্মসূচি করার ব্যাপারে সরকারের অভিমত কী, সেটা জেনে নিয়ে তিনি পরে আদালতে বলবেন। রাজনৈতিক বিষয়ে আদালতের সময় এভাবে নষ্ট হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। 


    মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, ধর্মতলায় সভা করার বিষয়টি আদালতকেও বুঝতে হবে। আমাদেরও এটা বোঝাতে হবে। আদালতের সামনে গিয়ে যদি কেউ বসে পড়ে তাহলে কী হবে? হাইকোর্টের সামনে হকার বসে পড়লে কি লোকজন যাতায়াত করতে পারবেন? নবান্নের মধ্যেও সভা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক বিষয় নয়, স্পর্শকাতর বিষয়, বুঝতে হবে সেটা।
  • Link to this news (বর্তমান)