• যৌন হেনস্তার অভিযোগ, আবাসিকদের প্রবর্তক আশ্রম ছাড়তে বলায় রণক্ষেত্র চন্দননগর
    বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগরের প্রবর্তক আশ্রম ছেড়ে আবাসিকদের বাড়ি চলে যেতে বলায় রণক্ষেত্র হয়ে উঠল চন্দননগরের বোড়াইচণ্ডীতলা। আবাসিক ও তাদের অভিভাবকদের একাংশের হামলার মুখে পড়ল প্রশাসন ও পুলিস। ঘটনাস্থলে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসিক ও তাদের অভিভাবকদের ব্যাপক ইটবৃষ্টির মুখে পড়তে হয়েছে পুলিস কর্মীদের। এই ঘটনায় কয়েকজন পুলিসকর্মী জখম হয়েছেন। আবাসিকদের অভিযোগ, তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। লাঠিচার্জ করা হয়েছে। রাত পর্যন্ত খবর, সেখানে আবাসিকরা ধর্নায় বসে আছে। অন্যদিকে, চন্দননগর পুলিস কমিশনারেটের এক ডিসিপি’র নেতৃত্বে বিরাট পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। পুলিস অবশ্য আবাসিকদের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক পুলিসকর্তা বলেন, শুধুমাত্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রবর্তক আশ্রমের বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে কয়েকজন আবাসিক যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেছিল। তারপরেই পুলিস তাঁকে খুঁজতে শুরু করে। কিন্তু তাঁর হদিশ মেলেনি। এই অবস্থায় আবাসিকদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। তারাই এদিন অভিভাবকদের ডেকে প্রবর্তক আশ্রমে বৈঠক করে। বিকেলে প্রবর্তক স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ও আবাসিকরা ফেরার পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়। আবাসিকরা আশ্রম ছেড়ে না যাওয়ার দাবি তুলে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (সিডব্লিউসি) সদস্যদের ঘেরাও করে। সেই সময় সিডব্লুসি কমিটির সদস্যদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিস এলে তাঁদেরও বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। পরে বিরাট পুলিস বাহিনী নিয়ে ডিসিপি নিজেই ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁর উদ্যোগে সিডব্লুসি সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাত পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। আবাসিক ও তাদের অভিভাবকরা আশ্রমের সামনেই বসে রয়েছেন। উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে আছে পুলিস। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)