সংবাদদাতা, কাটোয়া: পূর্বস্থলীর পাটুলি স্টেশন চত্বরে জবরদখল করে থাকা দোকান ভেঙে সরিয়ে দিল রেল। শুক্রবার কাটোয়া আরপিএফ ও রেলের অফিসাররা অস্থায়ীভাবে দখল করে থাকা বহু দোকান সরিয়ে দেন। রেলের জায়গায় দোকান করা হকাররা বলেন, ঋণ নিয়ে দোকান করে সংসার চলছিল। রেল ব্যবসা করার জন্য পুনর্বাসন দিক।
কাটোয়া-ব্যান্ডেল শাখায় পূর্বস্থলী-২ ব্লকের পাটুলি স্টেশন চত্বরে রেলের জায়গা জবরদখল করে দোকান তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চলছিল। কেউ মাছের দোকান করেছিলেন। কেউ আবার নলেন গুড়ের দোকান করেছিলেন। পাটুলি এলাকায় নলেন গুড়ের প্রচুর আড়ত রয়েছে। বহু জায়গা থেকে শীতকালে খেজুর গুড়ের পাটালি আসে পাটুলিতে। সেখান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই যেত। স্টেশন কাছে থাকায় সেখান থেকে যাতায়াতের সুবিধা হতো। কেউ কেউ রেলের জায়গা জবরদখল করে অস্থায়ীভাবে বহু বছর ধরে বাঁশের ছাউনি দিয়ে ঘিরে দোকান করেছিলেন। সেসব এদিন দখলমুক্ত করে আরপিএফ। স্টেশন চত্বরে জবরদখল করে থাকা ৭১টি দোকান কে আগেই সময়সীমা দিয়ে নোটিস পাঠিয়েছিল রেল। অনেকেই সেই নোটিস অনুযায়ী আগেভাগেই দোকান সরিয়ে নিয়েছিলেন। এদিন বাকি দোকানগুলি সরিয়ে দেয় আরপিএফ।
স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ হালদার বলেন, ঋণ করে মাটির জিনিসপত্রের দোকান করছিলাম। সব সরিয়ে দিল রেল। এখন কীভাবে আমরা সংসার চালাব সেই চিন্তায় রয়েছি। দোকানের জিনিসপত্রও ঋণ করে তুলেছিলাম। সেসব এখন কোথায় বিক্রি করব বুঝতে পারছি না। আর এক ব্যবসায়ী বুদ্ধদেব দাস বলেন, আমি মাছের দোকান করেছিলাম। আমাদের এখানে সবাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ঋণ নিয়ে ছোটখাট দোকান করে ব্যবসা করছিলাম। রেলের কাছে আমাদের অনুরোধ, একটি নির্দিষ্ট জায়গা ভাড়া নিয়ে আমাদের ব্যবস্থা করে দিক। তাহলে সেখানেই আমরা ব্যবসা করতে পারব। তা না হলে আবার আমরা বেকার হয়ে যাব। আরপিএফ অফিসার আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা আগেই নোটিস দিয়েছিলাম। রেলের জায়গা দখলমুক্ত করতে আমরা সরিয়ে দিয়েছি। আগামী দিনে রেল নিজস্ব জায়গায় নানা প্রকল্প করবে।