বাংলায় বিজেপির সব পার্টি অফিস পাহারা দিক কেন্দ্রীয় বাহিনী, আর্জি
বর্তমান | ২৯ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ভোট বিপর্যয়ের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক নেতা ভোটে ভরাডুবির পিছনে খোদ পার্টির একাংশেকেই দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, প্রার্থী বাছাই থেকে কেন্দ্র বদল-একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হওয়ায় বঙ্গ নেতাদের তোপের মুখে খোদ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপির এই ধারাবাহিক ডামাডোল আড়াল করতে ভোট পরবর্তী হিংসাকেই শিখণ্ডী করতে চাইছে মোদি-শাহরা। সেই সূত্রে দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি জগতপ্রকাশ নাড্ডা চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল বাংলায় পাঠিয়েছিলেন। যাঁরা হিংসার ঘটনার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে শুক্রবারই নাড্ডার হাতে রিপোর্ট জমা করেছে। সেখানে ভোট পরবর্তী বাংলায় বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ‘সঞ্জীবনী সুধা’ হিসেবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেই ‘ঢাল’ করেছে ফ্যাক্ট ফান্ডিং কমিটি। এদিন জমা পড়া সাত দফা সেই রিপোর্টে জেলা, ব্লক, পঞ্চায়েত সহ স্থানীয় স্তরে বিজেপি অফিস পাহারা দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোপরি ভোট পরবর্তী হিংসার জন্য প্রতিবারের মতো এবারও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করা হয়েছে।
যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের প্রশ্ন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিস পাহারা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যায়? বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে মানবাধিকার, শিশু, নারী সহ দেশের সমস্ত কমিশনকে বাংলার সর্বত্র পরিদর্শনের সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। ভোট পরবর্তী বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিধানসভা ভোটের পর থেকে যে কোনও ছোট ঘটনাতেই জাতীয় পর্যায়ের সমস্ত কমিশন বাংলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সন্দেশখালি পর্বে তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু কমিশন নয়, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ময়দানে নামানোর পাশাপাশি বিজেপির চুনো-পুঁটি নেতারাও নিজেদের ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছিলেন। যদিও এত কিছু করেও বাংলার মানুষের মন পায়নি গেরুয়া পার্টি। গতবারের তুলনায় একলাফে হাফ ডজন লোকসভা আসন কমে গিয়েছে বিজেপির। এছাড়াও কমিটির তরফে আক্রান্তদের আার্থিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কমিটির সদস্যরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ঘোরার সময় বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভে মুখে পড়েছিল। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রধান ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, রবিশঙ্কর প্রসাদদের নিগ্রহের উস্কানির অভিযোগে পার্টি থেকে সাময়িক সাসপেন্ড হয়েছেন লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবারের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস। স্বভাবতই সেই কমিটির সুপারিশ নিয়ে খোদ বিজেপি অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।