নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোন রাস্তায় কত হকার বসছেন, তাঁদের নাম, ছবি ইত্যাদি সব তথ্য জানা যাবে অ্যাপ থেকে। আপাতত শহরের কয়েকটি হকার অধ্যুষিত এলাকাকে ধরে পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি করা হচ্ছে অ্যাপটি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমোদন দিলে কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত হকারদের তথ্য অ্যাপে সংযুক্ত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করে দেওয়া হকার পুনর্বাসন সংক্রান্ত হাই পাওয়ার কমিটির বৈঠকের পর এ কথা জানান কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। জানা গিয়েছে, হকার সমীক্ষার রিপোর্ট এক মাসের মধ্যে পেশ করা হবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। জানা গিয়েছে, পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর এই অ্যাপ তৈরি করছে। কোন রাস্তায়, ফুটপাতের কোন অংশে, কতটা জায়গা নিয়ে (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ ধরে) কোন হকার বসেছেন তা অ্যাপে নথিভুক্ত থাকবে। প্রত্যেক হকারের নির্দিষ্ট জায়গাটির জিপিএস ট্যাগিং হবে। পাশাপাশি আধার সংযুক্তিকরণও হবে তাঁদের। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনও হকার তাঁর জায়গা অন্য কাউকে বিক্রি বা ভাড়া দিতে পারবেন না। হকারদের আবেদনপত্র দেওয়া হবে। সেখানে সবাই নিজেদের বিস্তারিত তথ্য দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিলে পাইলট প্রজেক্টে হাতিবাগান, গড়িয়াহাট এবং নিউমার্কেটের হকারদের অ্যাপের আওতায় আনা হবে। তারপর এ কাজ হবে কলকাতা সহ রাজ্যের সর্বত্র। এদিন হাই পাওয়ার কমিটি নিউমার্কেট পরিদর্শন করে। মেয়র জানান, হকারদের মালপত্র রাখার জন্য বেহালা এবং গড়িয়াহাটে গুদামের জায়গা চিহ্নিত হয়েছে। নিউমার্কেট এবং হাতিবাগানের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। ভেন্ডিং জোন, নো হকিং জোন এবং আংশিক ভেন্ডিং জোন ধরে কোথায় কোন হকারকে পুনর্বাসন দেওয়া হবে তার সিদ্ধান্ত নেবে টাউন ভেন্ডিং কমিটি। এদিনের বৈঠকে বেআইনি পার্কিং নিয়েও আলোচনা হয়। মেয়র জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো মাল্টিলেভেল কার পার্কিং তৈরির জায়গা খোঁজা হচ্ছে।