তুমুল বিক্ষোভের জেরে উচ্ছেদ অভিযান থেকে পিছু হটল রেল
বর্তমান | ৩০ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তুমুল বিক্ষোভের জেরে শনিবার রামপুরহাট শহরে উচ্ছেদ অভিযান নেমেও পিছু হটতে বাধ্য হল রেল। শুক্রবার মাইকিং করে মহকুমা শাসকের অফিসের চারদিক দখল করে থাকা ব্যবসায়ীদের সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়। নির্দেশ না মানলে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হবে জানিয়ে দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চেয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। শনিবার নিজেদের দখল হওয়া জায়গা ফাঁকা করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। জেসিবির সামনে বসে পড়েন। ফলে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেও পিছু হটে রেল। তবে, হুমকি দিলেও রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসন এদিন অভিযানেই নামেনি।
শুক্রবার মহকুমার প্রশাসনের মাইকিংয়ের পর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা মালপত্র বের করতে শুরু করেন। পাশাপাশি আন্দোলনের প্রস্তুতিও চলতে থাকে। এদিন ভোর ৫টা নাগাদ শহরের ডাকবাংলো মোড়ে জমায়েত শুরু করেন ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। কোথায় যাব? কী খাব? এমনই লেখা পোস্টার হাতে অবস্থান বিক্ষোভ বসেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। দফায় দফায় চলে বিক্ষোভ। বেলা একটু বাড়তেই পুনর্বাসনের দাবিতে শহরে মিছিল করা হয়। পতাকা ছাড়াই তৃণমূল প্রভাবিত ফুটপাত ব্যবসায়ী ইউনিয়নের সদস্য, সিপিএম ও কংগ্রেসের নেতারা তাতে শামিল হন। জেলা পরিষদের বাংলোর পাঁচিলের গায়ে শাঁখা-পলার দোকান রয়েছে তৃণমূলের ফুটপাত ইউনিয়নের সম্পাদক চন্দন চক্রবর্তীর। তিনি বলেন, যাদের জন্য ভোট করি, আমাদের এই বিপদের দিনে সেই এমএলএ, এমপি, নেতারা কোথায়? আমার দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা থেকে সংসার খরচের দায়িত্ব কে নেবে? স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে দোকান করেছি। দোকান সরিয়ে দিলে ছেলে-মেয়েদের মুখে কী করে অন্ন তুলে দেব? এত ব্যবসায়ীর কী হবে?
ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জানান, ঋণ নিয়ে তাঁদের অনেকেই দোকান করেছেন। সরিয়ে দিলে ঋণ মেটাবেন কীভাবে? পরিবারের সদস্যরা না খেতে পেয়ে মরবে। প্রশাসন আলোচনা করে পেট চালানোর বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলে তাঁরা দোকান সরিয়ে নেবেন। জেলা প্রশাসনের অভিযানের কথা জানতে পেরে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে গিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। এদিনই রেল আধিকারিকরা জেসিবি নিয়ে
হাজির হন। সঙ্গে ছিল রেলপুলিস। আন্দোলনকারীরা জেসিবির সামনে বসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। রেল পুলিসের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বলেন, গরিবের পেটে লাথি মারতে চাইছে। এই লড়াই তাঁদের মরণ বাঁচনের। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক এভাবে বিক্ষোভ চলার জেসিবি সরিয়ে নিয়ে যান রেলের অফিসাররা। উচ্ছেদের আশঙ্কায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তাতেই খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, আগামী বেশ কয়েকদিন তাঁরা এভাবেই আন্দলোন চালিয়ে
যাবেন। এদিন বিক্ষোভের আশঙ্কায় মহকুমা প্রশাসন অভিযানে না নামলেও এসডিও সৌরভ পান্ডে বলেন, সরকারি জায়গায় থাকা অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
এদিন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মিল্টন রশিদের নেতৃত্বে শহরে মিছিল করেন কর্মী সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, স্টেট ব্যাঙ্ক সংলগ্ন সরকারি জায়গায় তৃণমূল পার্টি অফিস রয়েছে। তা ভাঙতে হবে। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, লোকসভা ভোটে হারের জ্বালা থেকে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে।