দফায় দফায় অবরোধে যান চলাচল ব্যাহত ধর্মতলায়, নাস্তানাবুদ মানুষ
বর্তমান | ৩০ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার দিনভর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নিউ মার্কেট। শনিবার সকাল থেকে হকার বনাম স্থায়ী ব্যবসায়ীদের বচসা শুরু হয়। তা ক্রমে হাতাহাতিতে গড়ায়। দুপুরে ব্যবসায়ীরা জওহরলাল নেহরু রোড ও নিউ এম্পায়ার সিনেমা হলের সামনের রাস্তার মোড় অবরোধ করেন। অবরোধ ওঠার পর হগ মার্কেটের সামনে ফের বচসায় জড়ায় দু’পক্ষ। তারপর আবার নিউ মার্কেট থানা ঘেরাও করেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা এসএন ব্যানার্জি রোড অবরোধ করেন ব্যবসায়ীরা। তখন হকাররা আবার থানার দিকে ধাওয়া করেন। অবস্থা বেগতিক দিকে যাচ্ছে বুঝে পুলিস তড়িঘড়ি হকারদের নিউ মার্কেটের দিকে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যায়। এক পুলিস কর্মীর বক্তব্য, বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো গিয়েছে। এই ঘটনায় দিনভর শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ব্যাহত হয় যান চলাচল। দফায় দফায় তৈরি হয় যানজট। চূড়ান্ত নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। পাশাপাশি বহু সংখ্যক ক্রেতা জিনিসপত্র কিনতে এসে ফিরে যান। চূড়ান্ত অশান্তির জেরে বন্ধ থাকে বহু দোকান। ঘটনার সূত্রপাত এদিন সকালে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হঠাৎ এসে হকাররা বৈধ পার্কিং এরিয়া থেকে গাড়ি সরিয়ে নিতে বলেন। তার প্রতিবাদ করেন ব্যবসায়ীরা। তখন তাঁদের হকাররা মারধর করেন। তারপর বচসা শুরু হয় দু’পক্ষের। ক্রমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জয়েন্ট ট্রেডার্স ফেডারেশনের সভাপতি অশোক কুমার গুপ্তা বলেন, ‘পার্কিং জোনে হকারদের এক নেতা এসে বলেন, ওঁদের নাকি থানা থেকে বলেছে গাড়ি সরানোর জন্য। আমরা বলি, পুলিস এসে বললে তবেই আমরা শুনব। আপনারা কারা? তারপর ওঁরা শ্রীরাম আর্কেডের সম্পাদক মাকসুদকে মারধর করে।’ ব্যবসায়ীরা জানান, এরপর তাঁরা জওহরলাল নেহরু রোড অবরুদ্ধ করে দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুলিসের সেন্ট্রাল ডিভিশনের ডিসি সহ পুলিস বাহিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে ভিড় নিউ মার্কেটের দিকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিস। সেখানে ব্যবসায়ীদের উপর হকাররা ফের লাঠি-বাঁশ নিয়ে চড়াও হয়। তখনই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়। ব্যবসায়ীরা দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মার্কেটের শাটার নামিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। দিয়ে নিউ মার্কেট থানা অভিযানে যান। প্রায় এক ঘণ্টা এসএন ব্যানার্জি রোড অবরুদ্ধ করেন। তাঁদের অভিযোগ, ‘পুলিসের সামনে আমাদের মারা হয়েছে? আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।’
এই সময় পথ অবরোধের মধ্যেই নিউ মার্কেট থানার দিকে মিছিল করে আসেন হকাররা। পুলিস দু’পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তারপর হকারদের পিছিয়ে হগ মার্কেটের দিকে নিয়ে যায় পুলিস। সেখানে নিউ মার্কেট হকার্স ইউনিয়নের নেতা সানি সাউ, ইমতিয়াজ, মুক্তার আহমেদরা অভিযোগ করেন, ‘দোকানদাররা বিজেপি-আরএসএসের লোক। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় দোকান বসাচ্ছিলাম। তখনই ওঁরা এসে ঝামেলা শুরু করে। আমাদের এক বৃদ্ধকে মারধর করেছে। ওঁরা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মানে না। আমরা মেরে থাকলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিক। আমরাও পুলিসে অভিযোগ জানাব।’
বিকেলের দিকে পুলিস এসএন ব্যানার্জি রোডে মাইকিং করে রাস্তা ফাঁকা করার আহ্বান জানায়। দু’পক্ষকেই অভিযোগ থাকলে পুলিসে জানানোর কথা বলে। ঘটনার বিষয় খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেয়।