এক বছরে হোম লোনের পরিমাণ ১৪ শতাংশ বেড়েছে: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
বর্তমান | ৩০ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সঞ্চয় কমছে। ঋণ বাড়ছে। আম আদমির হাতে নগদ কমে যাওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী সবরকম লোন নেওয়ার প্রবণতা। আর কমেছে ব্যাঙ্কে সঞ্চয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিপোর্ট আবার জানিয়ে দিল পরিস্থিতির বদল হয়নি। সর্বশেষ রিপোর্টে উদ্বেগজনক হল, লোন পরিশোধ করতে না পারার প্রবণতাও বাড়ছে। সব মিলিয়ে দেশে বাড়ি কেনার জন্য নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৩ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে গিয়েছে। ১৪ শতাংশ বেড়েছে বিগত বছরের তুলনায়। ক্রেডিট কার্ড থেকে লোন নেওয়ার হার বৃদ্ধি হয়েছে ২৬ শতাংশ। ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গিয়ে এখন শুধুই ক্রেডিট কার্ডের ঋণের পরিমাণ ২ লক্ষ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। বিগত বছরে মে মাসে সব মিলিয়ে এই লোন ছিল ২ লক্ষ ১২ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শিল্পমহলের ব্যাঙ্ক লোন। বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার মোট ব্যাঙ্ক ঋণের পরিমাণ ২৭ লক্ষ কোটি টাকা স্পর্শ করেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গত বছর থেকেই লোন দেওয়ার উপর কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। দেখা যাচ্ছে যে লোন সবথেকে বেশি নেয় আম জনতা, সেই পার্সোনাল লোনের পরিমাণই কমেছে। অথচ বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পসংস্থার মোট নেওয়া ঋণের প্রবণতা এবং পরিমাণ কিছুই কমেনি। বরং, ৮ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ যাঁরা লোন নিয়ে পরিশোধ করে, তাঁদের উপরই চাপ দিচ্ছে ব্যাঙ্ক। আর ঋণ শোধ না করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সবথেকে বেশি অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, সেই বৃহৎ শিল্পমহলের ঋণের পরিমাণ যথারীতি বেড়েই চলেছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, আপাতত সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হবে নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্স কোম্পানিগুলি থেকে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপে। গৃহঋণ অথবা মর্টগেজ, প্রতিটি ক্ষেত্রে এই নন ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থা থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমানোই উদ্দেশ্য।