• খেলতে গিয়ে সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: নির্মীয়মাণ সেপটিক ট্যাঙ্কের জলে ডুবে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বিষ্ণুপুর শহরের নতুনমহলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির মালিককে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। মৃতের নাম সায়নী মিস্ত্রি(৭)। তার বাড়ি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনমহলে। এদিন দুপুরে খেলতে গিয়ে সে কোনওভাবে নির্মীয়মাণ ওই সেপটিক ট্যাঙ্কের জলে পড়ে যায়। চারদিকে খোঁজাখুঁজির পর ট্যাঙ্কের জলে ভাসতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিস বাড়ির মালিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 


    এদিন নতুনমহলে গিয়ে দেখা গেল রাস্তার ধারে একটি বাড়ি তৈরি হচ্ছে। বাড়ির মেঝে পর্যন্ত নির্মাণকাজ হয়েছে। তারই এক কোনে একটি সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরি হচ্ছে। ট্যাঙ্কের মুখ খোলা রয়েছে। তাতে প্রায় ৬ ফুট গভীর পর্যন্ত জল রয়েছে। নির্মিয়মাণ ওই বাড়ির পাশেই সায়নীদের বাড়ি। তার বাবা তারাপদ মিস্ত্রির মাইকের ব্যবসা রয়েছে। মা রেখা মিস্ত্রি গৃহবধূ। তাঁদের দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে সায়নী ছোট। ছেলের বয়স ১২ বছর। তারাপদবাবুর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, আদরের মেয়েকে হারিয়ে রেখাদেবী ঘনঘন সংজ্ঞা হারাচ্ছেন। তারাপদবাবু কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। আত্মীয়স্বজন থেকে প্রতিবেশীরাও শোকস্তব্ধ। 


    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে তারাপদবাবু কাজে বেরিয়ে যান। বাড়িতে রেখাদেবী ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার পর খেতে দেওয়ার জন্য সায়নীকে ডাকাডাকি করেও খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে গোটা পাড়ার লোকেরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেন। দুপুর আড়াইটা নাগাদ সেপটিক ট্যাঙ্কের জলে তাকে ভাসতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু তার আগেই তার মৃত্যু হয়। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির মালিককে ফোন করে ডাকেন। তিনি নির্মীয়মাণ বাড়ির কাছে আসতেই তাঁরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে পুলিস এসে তাঁকে আটক করে। 


    নির্মীয়মাণ বাড়ির মালিক রাহুল দাস পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার বাসিন্দা। তিনি বিষ্ণুপুর শহরের নতুনমহলে ওই বাড়িটি তৈরি করছেন। সেখানেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিস আটক করার আগে রাহুলবাবু বলেন, তিনদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এদিন ইট-বালি নামে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমি এখানেই ছিলাম। বৃষ্টি আসার পর বিষ্ণুপুর শহরে পিসির বাড়িতে চলে যাই। পরে দুর্ঘটনার খবর পাই। এদিন নতুনমহলের বাসিন্দারা বলেন, বাড়ির মালিক সেপটিক ট্যাঙ্কে জল ভরে রেখেছেন। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছোট ছোট শিশুরা খেলাধুলা করে। সেটা জেনেও তিনি জল ভর্তি ট্যাঙ্ক খোলা রেখে চলে গিয়েছেন। ওঁর উদাসীনতার জন্যই একটি শিশুর প্রাণ চলে গেল। আমরা পুলিসের কাছে বাড়ির মালিকের শাস্তির দাবি জানিয়েছি।
  • Link to this news (বর্তমান)