স্টেশনে শিশুকন্যাকে ছেড়ে দিয়ে ‘হারানো’র নাটক, ধৃত গুণধর বাবা
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দু’বছরের কন্যাসন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে আসানসোল স্টেশনে নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল বিহারের লক্ষ্মীসরাইয়ের মহম্মদ কাদির। তার দাবি, আসানসোল স্টেশন তার দু’বছরের কন্যাসন্তান গুলনাজ হারিয়ে গিয়েছে। কেউ তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে। কিন্তু তদন্তে নামতেই আরপিএফের চক্ষু চড়কগাছ! বাবাই আসল ‘ভিলেন’। আরপিএফ স্টেশন চত্বরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, স্টেশনের কাউন্টারে মেয়ের হাত ধরেই টিকিট কাটতে আসে বাবা। তারপর একরত্তি শিশুকন্যার হাত ছেড়ে দিয়েই দ্রুত এলাকা ছাড়ে। আরপিএফের দীর্ঘ জেরায় কুকীর্তি স্বীকার করে নেয় শিশুটির ‘গুণধর’ বাবা।
আরপিএফের ওয়েস্ট পোস্টের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগ সহ অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আসানসোল দক্ষিণ থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার আসানসোল আদালতে তোলে। বিচারক সাতদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ কাদিরের কন্যাসন্তান হারিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ হয়। এরপরই শিশুর খোঁজে তদন্ত শুরু হয়। তখনই তারা দেখতে পায়, গত ১৫ জুন কাদিরই মেয়ে গুলনাজের হাত ধরে আসানসোল স্টেশনের দক্ষিণপ্রান্তের টিকিট কাউন্টারে যাচ্ছে। তার সঙ্গে তার নিজের পুত্রসন্তানও ছিল। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেখানে ইচ্ছে করে ভিড়ের মধ্যে নিজের মেয়ের হাত ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। বাবা, দাদাকে দেখতে না পেয়ে শিশুটি টিকিট কাউন্টারের কাছেই ঘুরতে থাকে। প্রায় এক ঘণ্টা শিশুকন্যাটি সেখানেই ছিল। তারপরই ছোট ছোট পায়ে হাঁটতে হাঁটতে এমন জায়গা চলে যায় যেখানে আর কোনও সিসি ক্যামেরা নেই।
সন্তানের প্রতি নিজের বাবার এমন নিষ্ঠুর আচরণ দেখে চোয়াল শক্ত হয়ে আসে অফিসারদের। তাকে তৎক্ষণাৎ আটক করা হয়। অন্যান্য সিসি ক্যামেরা দেখে শিশুটির অবস্থান জানার মরিয়া চেষ্টা চালায় রেলপুলিস। কিন্তু শিশুটিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আরপিএফের সন্দেহ, অভিযুক্ত হয়তো ভেবেছিল সিসি ক্যামেরা ফুটেজ কয়েকদিন পর মুছে যাবে। তাই ঘটনার অনেকদিন পর সে এসে শিশুকন্যা হারানোর নাটক করছিল।
এক আরপিএফ অফিসার বলেন, তার উপর যাতে কারও সন্দেহ না হয় সেজন্য এই নাটক করেছে বলে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে। কিন্তু কেন এমন করল অভিযুক্ত? তদন্তকারীদের দাবি, শিশুটির শারীরিক সমস্যা ছিল। দুর্গাপুরে চিকিৎসাও চলছিল। আর্থিক অনটনের জেরেই এমনটা ঘটিয়ে থাকতে পারে। শিশুকন্যাকে উদ্ধারে সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে আরপিএফ।