• টানা বৃষ্টিতে কালিম্পংয়ে ধস অবরুদ্ধ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে তিস্তার ভাঙন। রবিবার তিস্তা নদীর থাবায় কালিম্পংয়ের দু’টি জায়গায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রায় ২০ মিটার অংশ ধসে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, পাহাড় থেকে জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় নেমেছে ধস। সবমিলিয়ে কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন কার্যত অবরুদ্ধ। অন্যদিকে, ধসে বিধস্ত কার্শিয়াং। বোল্ডারের আঘাতে জলের পাইপ ফেটে যাওয়ায় কার্শিয়াং শহর কার্যত নির্জলা। দার্জিলিংগামী ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কেও ধরেছে বিশাল ফাটল। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা রীতিমতো আতঙ্কিত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝাঁপিয়েছে প্রশাসন। 


    পাহাড়ে বৃষ্টি অব্যাহত। কখনও ভারী, আবার কখনও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এতেই কালিম্পংয়ের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর জল দ্রুত ওঠা-নামা করছে। যার ফলে কালিম্পংয়ের কালিঝোরা ও বিরিকধারার কাছে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে তিস্তার ভাঙন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে কালিঝোরায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রায় ১০ মিটার অংশ ভয়ঙ্করভাবে গ্রাস করেছে তিস্তা। সেখানে রাস্তার আরও কিছু অংশে ফাটল ধরেছে। বিরিকধারা এলাকায় রাস্তার অবস্থা একই। এর জেরে এদিন সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট দু’টি এলাকার দু’পাশে লম্বা লাইন পড়ে যায় যানবাহনের। এরবাইরে সেভকের করোনেশন সেতু থেকে সিকিম সীমান্ত সংলগ্ন রংপো পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রায় ১০টি জায়গায় নামে ধস। পাহাড় থেকে বোল্ডার, নুড়ি ও মাটি নেমে আসে রাস্তার উপর। সংশ্লিষ্ট সড়কের ২৯ মাইল থেকে গেইল খোলা পর্যন্ত অংশের অবস্থাও একই। পাহাড় থেকে বোল্ডার পড়ায় এখানেও দিনভর বন্ধ ছিল রাস্তা। এরজেরে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। তাঁদের বক্তব্য, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন। কালিম্পং ও সিকিম থেকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সড়কের মাধ্যমে শিলিগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু, ধসের জেরে রাস্তাটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। যার জেরে সিকিম ও কালিম্পং ফেরত পর্যটকদের একাংশ দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে হয়রান হন। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় কালিম্পংয়ে বৃষ্টির পরিমাণ ৩৫ মিলিমিটার। কালিম্পং জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টির জেরে কোথাও পাহাড় থেকে ধস নামেছে। আবার কোথাও তিস্তা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। এদিন দিনভর চেষ্টা চালিয়ে রাস্তা থেকে ধস সরানো হয়েছে।       
  • Link to this news (বর্তমান)