• উত্তরের বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত, দুর্ভোগ
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ফের ফুঁসছে তিস্তা ও জলঢাকা। পাহাড় ও সমতলে লাগাতার বৃষ্টির জেরে রবিবার সংশ্লিষ্ট দুই নদীর জল অসংরক্ষিত এলাকায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ এবং জলঢাকার অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সঙ্কেত জারি করেছে সেচদপ্তর। একইসঙ্গে মহানন্দা, বালাসন, সঙ্কোশ প্রভৃতি নদীও ফুলেফেঁপে উঠেছে। এর জেরে নদীর তীরবর্তী বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত। রাস্তা, জমি ও বাড়িতে উঠেছে নদীর জল। আবার কোথাও সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড ভেঙে মূল রাস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আটটি গ্রাম। বেকায়দায় পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।


    পাহাড় ও সমতলে বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে তিস্তা নদী। কালিম্পংয়ে তিস্তা বাজার এলাকা ফের প্লাবিত হয়েছে। কিছু জায়গায় তিস্তার জলস্তরের উচ্চতা ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সমান। জলপাইগুড়ি জেলায় তিস্তা নদীর দোমোহনি থেকে মেখলিগঞ্জগামী অসংরক্ষিত এলাকায় জারি করা হয়েছে হলুদ সঙ্কেত। জলঢাকা নদীর জলস্তরও বেড়েছে অস্বাভাবিক। এই নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় জারি করা হয়েছে লাল সঙ্কেত। জলপাইগুড়ি শহরের উপর দিয়ে প্রবাহিত করলা ও ধরধরা নদীতেও বেড়েছে জল।


    এদিকে রাতভর বৃষ্টিতে মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি চাকা মিস্ত্রি এলাকার ১০০টি বাড়ি জলমগ্ন। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এক হাঁটু জল। রান্নাঘরে জল ঢুকে যাওয়ায় অনেক বাড়ির উনুনে হাঁড়ি চড়েনি। এই পরিস্থিতিতে বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা চাঙ্গা করার দাবিতে রবিবার ওদলাবাড়ি-ক্রান্তি রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন দুর্গতরা। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় জলপাইগুড়িতে ১৩৬, দোমহনিতে ৮৫, নেওড়ায় ১২৯, নাগরাকাটায় ৩৫, সেভকে ২১৮, গজলডোবায় ১২৪ ও মূর্তিতে ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সেচদপ্তর সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির জেরেই বিভিন্ন নদীর জলস্তর বেড়েছে। ইতিমধ্যে তিস্তা পাড়ের অসংরক্ষিত অনেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া চাওয়াই নদীর জল ঢুকেছে কুকুরযান পঞ্চায়েতের ভাঙামালি গ্রামে।


    শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে জলপাইগুড়ি জেলার লালটং, চমকডাঙি, বেতগারা প্রভৃতি গ্রামও প্লাবিত। সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দারা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। শিলিগুড়িতে মহানন্দা নদীর জলও বেড়েছে। এদিন নদীর জলস্তরের উচ্চতা ছিল ১১৪.৪ মিটার। সঙ্গে অস্বাভাবিক স্রোত। যার জেরে দশরথপল্লি ও প্রধাননগর এলাকায় নদীর পাড় ক্ষতিগ্রস্ত। বালাসন ও চামটা নদীও ফুঁসছে। ফাঁসিদেওয়ায় গঙ্গারাম চা বাগান এলাকায় কালভার্টের অ্যাপ্রোচ রোড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চা বাগানের সঙ্গে আটটি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সঙ্কোশ নদীর জলে প্লাবিত আলিপুরদুয়ার জেলার বিত্তিবাড়ি গ্রাম। গ্রামের রাস্তা, কৃষিজমি ও ৫০টি বাড়ি জলমগ্ন। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েছে ২০০ মানুষ। যার মধ্যে বেশ কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছেন বিত্তিবাড়ি নিউ প্রাইমারি স্কুলে। এদিন প্লাবিত বিত্তিবাড়িতে যান কুমারগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সৌভিক দাস সহ আধিকারিকরা। প্রধান বলেন, দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জলঢাকা নদীর জলে প্লাবিত মেখলিগঞ্জের ধুলিয়া-বলদিহাটি গ্রাম। তলিয়ে গিয়েছে রাস্তা, চাষের জমি ও বাড়ি। গ্রামের ১০০টি বাড়ির লোকরা নিজেরাই নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছেন। নদীতে জল বৃদ্ধির কারণে নিশিগঞ্জের ভোজনেরছড়া ও খেতিফুলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারাও আতঙ্কিত।
  • Link to this news (বর্তমান)