সালিশি সভায় যুগলকে রাস্তায় ফেলে নৃশংস মার, মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ধৃত
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, চোপড়া: হাতে গোছা করা কঞ্চি দিয়ে যুবতীকে রাস্তায় ফেলে মেরেই চলেছে এক ষণ্ডামার্কা যুবক। মাঝে মাঝে চলছে লাথিও। চিৎকার করতে করতে যন্ত্রণায় গড়াগড়ি খাচ্ছেন যুবতী। পাশেই পড়ে এক আহত যুবক। তাঁকেও মারা হয়েছে নির্মমভাবে। শতাধিক মানুষ গোলাকার হয়ে নির্বিকারে দেখছেন সেই অত্যাচারের দৃশ্য। কেউ কেউ ভিডিও তুলছেন। দু’দিন আগের চোপড়ার সেই নির্মম ঘটনাটির ভিডিও (‘বর্তমান’ ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখেনি) রবিবার ভাইরাল হতেই তোলপাড় শুরু হয়। রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। অবশেষে মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের স্থানীয় এক নেতা তাজিমুল হককে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তার ডাকনাম জেসিবি।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত যুবক ও যুবতী দু’জনেই বিবাহিত। তাঁদের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই ওই যুবকের বাড়ি চলে যান যুবতী। কাউকে সেকথা জানতে না দিয়ে দুই পরিবার আলোচনা করে মীমাংসা করে নেয়। সেখান থেকেই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। ক্ষমতা জাহির করতে সালিশি সভা ডাকে তাজিমুল। তালিবানি কায়দায় এর নাম দেওয়া হয় ‘ইনসাফ সভা’। সেখানে যুবক ও যুবতীকে জরিমানা দিতে বলে ফরমান জারি হয়। টাকা না দিলে যুবক ও যুবতীকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয় তাজিমুল। সেই সিদ্ধান্ত না মানায় দু’জনকে মারধর করা হয়েছে শুক্রবার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্ত তাজিমুল হক তৃণমূলের অঞ্চল কোর কমিটির কনভেনর। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, তার একটি গ্যাং রয়েছে। সালিশি সভা বসিয়ে হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা সেই গ্যাংয়ের কাজ। এলাকায় তাদের রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই যে, মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করা ছাড়া উপায় থাকে না।
লক্ষ্মীপুর পঞ্চায়েতের দীঘলগাঁওয়ে এই ঘটনা ভিডিও নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে ইসলামপুর পুলিস জেলার এসপি জবি থমাস বলেন, আমরা ভিডিওটি দেখেছি। তার ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যারা মারধর করেছে, তাদের চিহ্নিত করে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। আমরা এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি।
জেসিবি নামটা এলাকায় এতটাই ত্রাসের মতো যে, পুলিস কিংবা সংবাদমাধ্যমের সামনেও মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শুক্রবার বিকেলে অত্যাচারের পর সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও যেতে পারেননি ওই যুগল। সামান্য ছুতো পেলেই সালিশি সভা করে প্রভাবশালীরা। তার আসল উদ্দেশ্য হল জোর খাটিয়ে মোটা টাকা আদায় করা।
ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের নাম জড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, পুলিস, প্রশাসনকে ফোন করে বলেছিলাম অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে। অপরাধ যেই করুক না কেন, আইন মেনে তার বিরুদ্ধে ঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানের বক্তব্য, ঘটনার ভিডিয়ো দেখেছি। এখন সবাই তৃণমূলের। এটা নিয়ে তিলকে তাল করছেন কেন?