• ৩৫ লক্ষ শিশুর মধ্যে অটিজম আক্রান্ত ৬ হাজার, চিকিৎসা ও থেরাপি করাচ্ছে সমাজকল্যাণ দপ্তর
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৪
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা: অটিজম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে সমাজে নানা ধরনের বিরূপ মনোভাব দেখা যায়। কিন্তু একটু সাহচর্য পেলেই আর পাঁচটা শিশু-কিশোরের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপনই করতে পারে তারা। এই লক্ষ্যে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর। দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ সরকারই এদের সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে আসতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে। কেউ অটিজম আক্রান্ত কি না, তা যত কম বয়সে বোঝা যাবে, তাঁকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে দেওয়া ততটাই সহজ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই রাজ্যের ১ লক্ষ ২০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ৩ থেকে ৬ বছরের শিশুদের মধ্যে কেউ অটিজম আক্রান্ত আছে কি না, তা খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার জন্য একটি বিশেষ সমীক্ষা চালায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। প্রায় ৩৫ লক্ষ শিশুর মধ্যে প্রায় ছ’হাজার অটিজম আক্রান্ত বলে চিহ্নিত হয়েছে। এদের অধিকাংশই প্রান্তিক পরিবারের শিশু। তাই শুধু সমীক্ষা করে হাত ধুয়ে ফেলা নয়, তাদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত  পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। 


    দপ্তরের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সর্বদাই শিশু বিকাশের ক্ষেত্রে জোর দেন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় একটি জটিল বিষয়কে ভীষণ সহজ করে নিয়ে একজন শিশু অটিজম আক্রান্ত কি না, তা বোঝা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রতি বছরই চালানো হবে এই সমীক্ষা।’ কীভাবে চালানো হয় এই সমীক্ষা? জানা গিয়েছে, এর জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষজ্ঞদের তৈরি একটি প্রশ্নপত্র বা টেমপ্লেট। তা দেখে শিশুর মাকে একগুচ্ছ প্রশ্ন করা হয়। শিশুদের দৈনন্দিন আচার-ব্যবহারে কোনও পরিবর্তন ঘটছে কি না, তা সবচেয়ে ভালো খেয়াল রাখেন মায়েরাই। তাই তাঁদেরকেই প্রশ্নগুলি করা হয়। যেসব শিশুর মধ্যে অটিজমের লক্ষণ দেখা যায়, তাদের নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট সরকারি হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তারবাবুরা অটিজম নিশ্চিত করলে রাজ্যই চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় থেরাপির ব্যবস্থা করে। নির্দিষ্ট আধিকারিক বা কর্মীর মাধ্যমে আক্রান্তদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এক আধিকারিক বলেন, ‘এটা সামান্য এক মাস বা দু’মাসের চিকিৎসা চালানোর বিষয় নয়। বছরের পর বছর চলে থেরাপি। শেষ পর্যন্ত লেগে থেকে একজনকে জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে নিয়ে আসাই এর লক্ষ্য।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)