ফুটপাতে চলছে রান্না থেকে রকমারি পণ্য বিক্রি, রাস্তার দখল নিয়েছে অটো-টোটো
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: কলকাতার ফুটপাত দখলমুক্ত করা শুরু হলেও বারাকপুরের বিভিন্ন জায়গায় এখনও ফুটপাতে দখলদারি চলছে। বিশেষ করে বারাকপুরের চিড়িয়ামোড় থেকে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত ফুটপাত আর ফুটপাত নেই। কারও পক্ষে সেখানে হাঁটা সম্ভব নয়। সবই দখল হয়ে গিয়েছে। আর বারাকপুর স্টেশন থেকে চিড়িয়ামোড় পর্যন্ত রাস্তায় ফুটপাত ফাঁকা থাকলেও এই অংশে আবার সমস্যার মূল কারণ অটো-টোটোর দখলদারি। রাস্তা এমনভাবে তারা দখল করে থাকে যে হাঁটাচলা করাই বিপদ। চিড়িয়ামোড় পেরিয়ে বারাকপুর আদালত এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে রয়েছে। সেখানে বসেছে একের পর এক খাবারের স্টল, তেমনই সরকারি জায়গাতেই হয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। আদালত চত্বরের সামনে ফুটপাতের বাইরে ক্যান্টনমেন্টের রাস্তাও দখল করে চলছে ফুড স্টল থেকে গাড়ি পার্কিং। দু’চাকা থেকে চার চাকা– সবই দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার উপরে। নেওয়া হচ্ছে পার্কিং ফি। দিনে দিনে সংকীর্ণ হচ্ছে রাস্তা। এদিকে, ইতিমধ্যে পুরসভা ও পুলিসের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, বেআইনি কাঠামো নিজেরা সরিয়ে না দিলে ভেঙে দেওয়া হবে।
আবার বারাকপুর ওয়্যারলেস মোড় থেকে স্টেশন অভিমুখী বারাসত- বারাকপুর রোডে যান যন্ত্রণা এখন নিত্যদিনের চিত্র। দিনের ব্যস্ত সময়ে সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়। বেআইনি দখলদারদের দাপাদাপিতে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাও ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন যানজটে মানুষ নিত্য ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, তেমনই বাড়ছে দুর্ভোগ। পূর্তদপ্তরের আধিকারিকরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব নবান্নে পাঠালেও তা এখনও ফাইলবন্দি হয়েই পড়ে সেখানে। বারাকপুরের চেয়ারম্যান উত্তম দাস অবশ্য বলছেন, যে সমস্ত দখলদাররা রাস্তা, ফুটপাত দখল করে বসে আছেন, তাদের এক মাসের সময়সীমা দিয়ে নোটিস ধরানো হচ্ছে। তারপরও না উঠলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ফাস্ট ফুডের দোকান থেকে মুদি বা দশকর্মা দোকান– সবই রয়েছে। রাস্তার উপর ফুটপাতের অংশ গার্ড করে যেমন চলছে রান্না, তেমনই ক্রেতা টানতে রাস্তার উপরেই রাখা বিরিয়ানির হাড়ি। এছাড়া সব্জি বিক্রেতা থেকে সাধারণ হকাররা তো রয়েছেনই। যানজটের নিত্য ভোগান্তি থেকে নিস্তার পাওয়া দূরের কথা, দিনের ব্যস্ত সময়ে কয়েক মিনিটের রাস্তা পার করতেই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। ফুটপাতের সমস্যা তো রয়েইছে, সঙ্গে রয়েছে অটো এবং টোটোর উৎপাত। স্থানীয় কাউন্সিলার জয়দীপ দাস বলেন, আমরা রাস্তা জবরদখল মুক্ত করার চেষ্টা ইতিমধ্যেই করেছি। চেয়ারম্যানও বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নিচ্ছেন।