মরশুমের শুরু হতেই বাজারে দেদার ছোট ইলিশ, কড়া পদক্ষেপ দাবি মৎসজীবীদের
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: মরশুমের প্রথম থেকেই বাজারে ‘পিল’ বা ছোট ইলিশ ঢোকা শুরু হয়ে গেল। ১০০-১৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ দেদার আসা শুরু হয়েছে মৎস বন্দরগুলিতে। ক্রেটে বরফ চাপা দিয়ে লুকিয়ে ছোট ইলিশ ডায়মন্ড হারবার ও শিয়ালদহের মাছের বাজারে পাঠিয়ে দিচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। সমুদ্রে মাছ ধরার দ্বিতীয় পর্যায় থেকে বেআইনি এই কাজের প্রবণতা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে একের পর এক ট্রলার সমুদ্র থেকে মাছ ধরে বন্দরে ফিরতে শুরু করেছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি ট্রলার ছোট ইলিশে ভর্তি।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক বিজন মাইতি জানান, সরকারি আইন অনুযায়ী ২৩ সেন্টিমিটারের কম মাপের ইলিশ ধরা নিষেধ। এই মাপের ইলিশ সাধারণত ২৫০ গ্রাম অথবা তারও বেশি ওজনের হয়। কিছু মৎস্যজীবী ছোট ইলিশ মাছ ধরেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে যাঁরা ছোট ইলিশ ধরেছিলেন প্রশাসন ও মৎস্যদপ্তর তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। এখন যাঁরা আইন বিরোধী কাজে যুক্ত প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এই দাবি আমাদের।’
অধিকাংশ মৎসজীবীর বক্তব্য, সমুদ্র থেকে এভাবে ছোট ইলিশ ধরে নিলে আগামী দিনে আর পাওয়াই যাবে না। মরশুমের প্রথম থেকে এই ঘটনা ঘটতে থাকলে ব্যবসায় বড় বিপর্যয় নেমে আসবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছোট ইলিশ মাছ ধরা নিয়ে বারবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির মৎস্যজীবী তা শোনেন না। মৎসজীবীদের দাবি, ইলিশ মাছ বাঁচিয়ে রাখতে অসাধু মৎস্যজীবীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি ট্রলারের মাছ ধরার জালগুলির দিকে প্রশাসনকে বাড়তি নজর দিতে হবে। সরকারি আইন অনুযায়ী ৯০ সেন্টিমিটারের থেকে ছোট ফাঁসের জাল ট্রলারগুলিতে ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এই আইন ঠিকমতো মেনে চলা হচ্ছে না। কারণ এত ছোট ইলিশ ছোট ফাঁসের জাল ছাড়া ধরা সম্ভব নয়।