সংবাদদাতা, বজবজ: বর্ষার মরসুমের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন বজবজের রায়পুর, বুড়ুলের গদাধর গ্রাম ও ফলতার নলদাঁড়ির গঙ্গাপাড়ের মৎস্যজীবীরা। কারণ এই সময় সাগরের মোহনা থেকে উজান পেরিয়ে গঙ্গায় চলে আসে রুপোলি ইলিশের ঝাঁক। রায়পুর, বুড়ুল ও নলদাঁড়ির মৎস্যজীবীদের এ সময় বাড়তি লাভ হয়। অন্য মাছের চেয়ে ইলিশের জন্য বেশি দাম পাওয়া যায়। লোকজন এসে ভিড় জমায় ঘাটগুলিতে। রায়পুর, বুড়ুল ও নলদাঁড়ি ঘাট মিলিয়ে পঞ্চাশের বেশি নৌকা এই সময় গঙ্গায় ইলিশ ধরতে জাল পাতে। বুড়ুলের এক মৎস্যজীবী বলেন, প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে জোয়ার ও ভাঁটার সময় দেখে জাল পাতা হয়। জোয়ার শেষ হওয়ার পর ভাঁটা শুরুর সময় জালে ইলিশ ধরা পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হওয়াতে মাছ জালে উঠতে শুরু করেছে। এর ভিতর দেড় কেজি ওজনের ইলিশও উঠেছে। তবে সংখ্যায় কম। বেশির ভাগ ইলিশের ওজন ৭০০ থেকে ৪০০ গ্রামের মধ্যে। নলদাঁড়ি ঘাটের পলাশ মাঝির নৌকায় দেড় কেজির ইলিশ উঠেছে। পলাশ মাঝির কথায়, সকলে সাগরের ইলিশের কথাই জানে। কিন্তু আমাদের এই গঙ্গায় বিশেষ করে বজবজ ও ফলতার তিনটি ঘাট সংলগ্ন গঙ্গায় ইলিশ যে আসে তা অনেকের জানা নেই। দশ থেকে পনেরো বছর আগে মাঝে মধ্যে ছোট আকারে অল্প ইলিশ পাওয়া যেত। তখন সেভাবে গুরুত্ব পায়নি এই অঞ্চল। গত কয়েক বছর ধরে মরসুমে অনেক বেশি সংখ্যায় ইলিশ আসছে। এখন প্রতিদিন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ভিতর বর্ষার দাপট বাড়লে আরও বেশি সংখ্যায় পাওয়া যাবে। এই তল্লাটে ইলিশ মাছের বড় পাইকার হলেন পিন্টু মণ্ডল। তিনিও আশা করছেন, কয়েকদিন পর থেকে আরও বেশি জলের রুপোলি শস্য আসতে শুরু করবে।