নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভেড়ি কার হাতে থাকবে, এ নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেগঙ্গা। এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের দুই কর্মী জখম হয়েছেন। অন্যদিকে, রবিবার সকালে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আমডাঙার খুড়িগাছি এলাকায়। আহত তৃণমূলের এক কর্মী বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জুয়ারিয়া এলাকায় রয়েছে ১৬৮, ১৬৯ নম্বর বুথ। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে একটি বুথে রয়েছে তৃণমূলের সদস্য। অন্যটিতে নির্দল। একটা সময় নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য পূর্ণিমা মণ্ডল তৃণমূলেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এলাকাযর ভেড়ি কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠত এলাকা। শনিবার রাতে তা চরমে পৌঁছয়। নির্দল পঞ্চায়েত সদস্যের লোকজনের সঙ্গে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দুই কর্মীকে বেধড়ক মারা হয়েছে বলে নির্দল পঞ্চায়েত সদস্যের অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী বিপ্লব মণ্ডল বলেন, নির্দল পঞ্চায়েত সদস্যা পূর্ণিমা মণ্ডলের অনুগামীরা এদিন এলাকায় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি করে। আমাদের দু’-তিনজন কর্মীকে লাঠি, বাঁশের পাশাপাশি বন্দুকের বাট দিয়ে বেধড়ক মারা হয়েছে। খুবই আতঙ্কে আছি। যদিও পূর্ণিমাদেবীর ঘনিষ্ঠদের দাবি, এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেছে তৃণমূল। বোমাবাজি করে মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে তারা। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই ঘটনাকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে দাবি করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির নেতা তাপস মিত্র বলেন, ভেড়ি মানেই তৃণমূল। তার দখল নিয়ে ওরা নিজেরাই মারপিট করছে। আসলে সবটাই তোলাবাজির লড়াই। এ নিয়ে চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান হুমায়ুন রেজা চৌধুরী বলেন, এই ঘটনায় তৃণমূলের কর্মীরাই আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিস উপযুক্ত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। তৃণমূলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই।
অন্যদিকে, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রবিবার সকালেই উত্তেজনা ছড়ায় আমডাঙার খুড়িগাছি উত্তরপাড়ায়। তৃণমূলের এক গোষ্ঠীর লোকজনের হাতে আক্রান্ত হয়েছে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী আতাউল মণ্ডল। আক্রান্ত আতাউলের দাবি, সকালে আমি বাড়ির সামনে বসেছিলাম। হঠাৎই বিধায়কের অনুগামীরা এসে মারধর করেছে। পাশাপাশি তারা হুমকিও দিয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা না ধরায় তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।