• আণ্ডিরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গরমে পড়ুয়ার সংখ্যা কমায় স্কুলকে পাখা উপহার ব্যবসায়ীর
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বহরমপুর: জুলাই শুরু হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। ভ্যাপসা গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত প্রায়। গরমের কারণে স্কুলে পড়ুয়ার উপস্থিতির হারও তলানিতে এসে ঠেকেছে। কান্দি পুরসভার রসড়ার একটি স্কুলে শিক্ষকদের আর্থিক অনুদানে ঘরে ঘরে এসি বসেছে। সরকারি স্কুলের প্রতিটি ঘরে এসি। এই খবর ভাইরালের মতো ছড়িয়েছে। শিক্ষকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন অনেকে। কার্যত তারই প্রতিফলন পড়ল বেলডাঙা চক্রের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গরমের হাত থেকে বাঁচিয়ে পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করতে গ্রামের পছন্দের স্কুলে এগারোটি সিলিং ফ্যান কিনে দিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুরজিৎ দত্ত। সোমবার বিদ্যালয়ের পাঠাগার কক্ষে তিনটি ও ডিজিট্যাল ক্লাস রুমে আটটি সিলিং ফ্যান ঝোলানো হল। গরমের হাত থেকে কিছুটা সুরাহা মেলায় খুশি বেলডাঙা চক্রের ৩০ নম্বর আণ্ডিরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। 


    ওই বিদ্যালয় পঠন পাঠন থেকে শুরু করে সামাজিক সচেতনতায় এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। বাল্যবিবাহ রোধ, শিশুশ্রম বন্ধ, বৃক্ষরোপণের মতো সামাজিক কাজে স্কুল পড়ুয়ারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আণ্ডিরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনুসরণ করছে এলাকার অন্যান্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অতিরিক্ত গরমের কারণে গ্রীষ্মের ছুটির পর স্কুল খুললেও অভিভাবকরা পড়ুয়াদের স্কুল পাঠাতে বারবার অনীহা দেখিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরেও শিক্ষকরা পড়ুয়াদের ক্লাসে আনতে পারেননি। অভিভাবক হরিহর মণ্ডল বলেন, অতিরিক্ত গরমে স্কুল থেকে ফিরেই ছেলে ক্লান্ত হয়ে নেতিয়ে পড়ছিল। ভয়ে পাঠাইনি। এরপর ছেলেকে স্কুল পাঠাতে আর আপত্তি থাকবে না।


    গরমের কারণে গ্রামের স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে থাকায় এগিয়ে আসেন সুরজিৎবাবু। কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে স্কুলকে এগারোটি সিলিং ফ্যান কিনে দিলেন। তিনি বলেন, এই স্কুলের সঙ্গে আমার নাড়ির টান বলতে পারেন। এলাকার নজরকাড়া স্কুল। অথচ গরমে পড়ুয়ার সংখ্যা রোজ কমছে। পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করতেই এমন উদ্যোগ। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে এর আগে কুড়ি হাজার টাকা খরচা করে বিদ্যালয়ে স্ট্যান্ড গ্লোব বসিয়ে দিয়েছেন ওই ব্যবযায়ী। 


    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, পাঠাগার ও ডিজিটাল ক্লাস রুমগুলিতে ফ্যান না থাকায় পড়ুয়াদের কষ্ট হচ্ছিল। আশা করি, এবার একশো শতাংশ পড়ুয়া স্কুলে আসবে। স্কুল ছাত্র ময়ূখ মণ্ডল বলে, গরমে কষ্ট হচ্ছিল। এবার ফ্যানের নীচে বসে ক্লাস করতে একটুও কষ্ট হবে না। ছাত্রী বৃষ্টি দাস বলে, বাবা মা স্কুলে আসতে দিতে চাইত না। ক্লাসে ফ্যান লাগানো হয়েছে শুনে বাবা মাও খুশি।
  • Link to this news (বর্তমান)