• বারুইপুরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাইক রেস
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা,  বারুইপুর: কেউ বাইকের পিছনের চাকা রাস্তার উপর তুলে হাওয়ায় দোলাচ্ছে। কেউ আচমকা পিক আপ তুলে রাস্তায় ঘষে আগুন বের করছে। এই ভেল্কি চলছে সন্ধ্যা থেকে রাত। যেদিন যে টিন এজার জিতছে সেদিন সে হিরো। তাকে নিয়ে চলছে মাতামাতি। রোজ সন্ধ্যা হতে না হতেই জীবন বাজি রেখে এই বাইক রেস চলছে। হেলমেটের বালাই নেই। নামী কোম্পানির দামি বাইক নিয়ে কিশোররা মেতেছে দৌড় প্রতিযোগিতায়। রবিবার বারুইপুর থানার এসআই অর্ণব চক্রবর্তীর কাছে গোপন সূত্রে এই খবরটি আসে। বারুইপুরের টংতলা বাইপাসে তখন চলছে উদ্দাম গতির বাইক দৌড়। পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। একলপ্তে বাজেয়াপ্ত করে ১৭ দামি বাইক। আটক করে নিয়ে আসা হয় বাইক চালকদেরও। পুলিস জানিয়েছে, এরা প্রত্যেকেই কলেজ নতুবা স্কুল পড়ুয়া। মুচলেকা নিয়ে কড়াভাবে সতর্ক করে এবং জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েছে তারা। পড়ুয়াদের অভিভাবকদেরও থানায় ডেকে পাঠিয়ে মুচলেকা নেওয়ার পাশাপাশি কঠোরভাবে সতর্ক করা হবে বলে বারুইপুর পুলিস জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন।টিন এজারদের কেউ বিষ্ণুপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। কেউ বারুইপুরে থাকে। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, এই পড়ুয়ারা প্রথমে কেমনভাবে রেস শুরু করা হবে তার পরিকল্পনা করে। তারপর এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে চলে রেস। এদের পছন্দ রেসিং বাইক। কয়েক লক্ষ টাকা দামের বাইক কিনে দিতে একপ্রকার বাধ্য করে অভিভাবকদের। বাইক নিয়ে চলে আসে নির্জন বাইপাস এলাকায়। তারপর চলে রেস। বাইক চালক সুত্রে জানা গিয়েছে, রেস শুরুর আগে টাকার বাজি রাখা হয়। স্থানীয়রা বলেন, বারুইপুরে টংতলা বাইপাস শুধু নয়, ধোপাগাছি, পদ্মপুকুর বাইপাশেও প্রতি শনি ও রবিবার সন্ধ্যার পর রেস চলে। বারুইপুর সহ আশপাশের এলাকার কলেজ ও স্কুল পড়ুয়ারা এতে অংশ নেয়। মানুষকে যাতায়াত করতে হয় বিপদ মাথায় নিয়ে। পুলিস রেস বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিক। অনেকের বক্তব্য, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি নিজেদের ছেলেদের চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে দামী বাইক কিনে দিচ্ছে। নজরদারির অভাবে বাইপাস এদের ‘সেফ জোন’।
  • Link to this news (বর্তমান)