জাতীয় সড়কে টোটো ও মোটর-ভ্যান বন্ধ করতে ব্যর্থ পুলিস, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেয়ে বেআইনি পার্কিং ও জবরদখলের বিরুদ্ধে ঘুম ভেঙেছিল হাওড়া সিটি পুলিসের। এসব ক্ষেত্রে বেশ কিছু ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জাতীয় সড়কে মোটরচালিত ভ্যান ও টোটোর দাপট বন্ধ করতে তারা ব্যর্থ। ফলস্বরূপ প্রতিদিন হাওড়া সিটি পুলিসের এলাকায় জাতীয় সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে টোটো এবং মোটরচালিত ভ্যান। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কবে? প্রশ্ন আম জনতার।
পরপর দু’দিন হাওড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দিন রাখঢাক না রেখে তিনি সরাসরি হাওড়ায় লুটের কড়া সমালোচনা করেন। সেই ধমক খেয়ে কিছুটা নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং পুলিস। বেআইনি পার্কিং নিয়ে ধরপাকড় হয় বহু জায়গায়। কিন্তু অদ্ভুতভাবে জাতীয় সড়কে টোটো এবং মোটরচালিত ভ্যান বন্ধ করার ব্যাপারে তাদের কোনও উদ্যোগ নেই। ফলে বম্বে রোড ও দিল্লি রোডে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। বিভিন্ন পয়েন্টে এই গাড়িগুলির জন্যই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। জাতীয় সড়কে যেখানে গাড়ির স্বাভাবিক গতি থাকে ঘণ্টায় ৫০ কিমির বেশি, সেখানে টোটোর মতো ধীরগতির যানবাহন চলছে কীভাবে? প্রশ্ন করছেন সাধারণ মানুষ। এক বেসরকারি বাসের চালক বলেন, সলপে জাতীয় সড়কের উপর দেখছি টোটোগুলি যাত্রী তুলছে। হঠাৎ করে সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে তারা। যদি দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বাস চালককে ধরেই টানাটানি হবে। সামনে পুলিস থাকা সত্ত্বেও তাদের
আটকায় না।
কোনার বাসিন্দা অমলেন্দু দত্ত বলেন, আমাদের এখানে বেশ কিছু টোটো আছে, যেগুলি নিয়মিত সলপ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক দিয়ে ভাড়া খাটে। ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই তাতে যাতায়াত করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টোটোগুলি মাল বহন করে। পাকুড়িয়া ব্রিজে মাঝেমধ্যেই মাল বোঝাই টোটো উল্টে যায়। বড় দুর্ঘটনা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ভোটের আগে যে পুলিসকর্মীরা ছিলেন, তাঁরা টোটোর উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পেরেছিলেন। মাঝে কিছুদিন ধরপাকড়ও হয়। ফলে ভয়ে টোটোগুলি জাতীয় সড়কে ওঠা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় পুলিস কর্মীরা বদলি হয়ে গিয়েছেন। পরিবর্তে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা কঠোর না হওয়ায় ফের টোটো ও মোটরচালিত ভ্যান জাতীয় সড়কে উঠে পড়ছে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সড়কে বহু জায়গায় উল্টো দিক থেকেও টোটো আসে। অর্থাৎ পুলিসের সামনেই ‘ওয়ান ওয়ে’ ভাঙার খেলা চলে। একই অবস্থা অঙ্কুরহাটি, ধুলোগড় সংলগ্ন জাতীয় সড়কে। পুলিসের সামনে জাতীয় সড়কে উঠলেও কেন তাদের কিছু বলা হয় না? সাধারণ মানুষের দাবি, এর পিছনে আর্থিক লেনদেন রয়েছে। এ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিয়েছেন ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) সুজাতাকুমারী বীণাপানি। তিনি বলেন, জাতীয় সড়কে টোটো এবং মোটরচালিত ভ্যান কোনওভাবেই চালানো যাবে না। এবার থেকে লাগাতার নজরদারি চলবে এবং জাতীয় সড়কে টোটো ও ভ্যান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হবে। নিজস্ব চিত্র