নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: পাড়ার নাতনিকে ধর্ষণের ঘটনায় দাদুর সাজা ঘোষণা করল ঝাড়গ্রামের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা আদালত। বুধবার আদালতের বিচারক জীমূতবাহন বিশ্বাস অভিযুক্তর ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর জেল খাটতে হবে সাজাপ্রাপ্তকে। সাজাপ্রাপ্তর নাম রমেশ সিং। তার বাড়ি বেলপাহাড়ী থানা এলাকায়। ঝাড়গ্রাম আদালতের সরকারি আইনজীবী হরেন্দ্রনাথ পট্টনায়েক বলেন, জরিমানার টাকার ৯০ শতাংশ নির্যাতিতাকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিস ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল। বৃদ্ধ রমেশের উপর স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ ছিল। সে বিভিন্ন সময়ে গ্রামের মহিলা ও যুবতীদের কটূক্তি করত। এছাড়াও একসময় স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগে রমেশকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। ঘটনার দিন সকাল থেকে ওই যুবতী বাড়িতেই ছিলেন। দুপুর ১টা নাগাদ তিনি পোষা ছাগল খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হন। বেশকিছু জায়গায় খোঁজ চালানোর পর তিনি রমেশের বাড়ির সামনে যান। অভিযোগ, সেই সময় ওই বৃদ্ধ যুবতীকে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু যুবতী তাতে রাজি হননি। এরপর জোরপূর্বক যুবতীকে ঘরে ঢুকিয়ে ধর্ষণ করে রমেশ। সেই ঘটনা দেখে ফেলেন তার পুত্রবধূ। পরে ওই যুবতী বাড়ি চলে গেলে পুত্রবধূ পাড়া-প্রতিবেশীদের সম্পূর্ণ বিষয়টি জানান। তবে ওই যুবতী বাড়ি গিয়ে লজ্জায় পরিবারের সদস্যদের প্রথমে কিছুই বলতে চাননি। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন। ওই দিন বিকেলেই নির্যাতিতার মা বেলপাহাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেদিনই বিকেলে রমেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। একমাসের মধ্যে ৩১ মে চার্জশিট দেয় পুলিস। ১৪ সেপ্টেম্বর চার্জ গঠিত হয়। আদালতে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ৩০ জুন বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করা হয়। ঝাড়গ্রামের পুলিস সুপার অরিজিৎ সিনহা বলেন, আমাদের ট্রায়াল মনিটরিং সেলের তরফে মহিলা নির্যাতনের মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। দ্রুত ট্রায়াল হওয়ায় দোষীকে দ্রুত শাস্তি দেওয়া সম্ভব হল।