জল সঙ্কটে জর্জরিত গ্রামে এল না ট্যাঙ্কার, পুঞ্চায় অবরোধ ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের
বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, মানবাজার: গ্রামে রয়েছে পানীয় জলের সমস্যা। তাই প্রশাসনের তরফে ট্যাঙ্কারে করে পানীয় জলের জোগান দেওয়া হচ্ছিল গ্রামে। কিন্তু গত পাঁচদিন ধরে গ্রামে আসছে না জলের ট্যাঙ্কার, ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েও মেলেনি সুরাহা। প্রতিবাদে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের ধাদকি গ্রামের মাহাতো পাড়ার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে পুঞ্চা-লালপুর রাস্তার ধাদকি গ্রামে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। সাময়িক অবরোধের জেরে ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুঞ্চা থানার পুলিস এসে জল সরবরাহের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের পুঞ্চা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধাদকি গ্রামের মাহাতো পাড়ায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে দীর্ঘদিন। পাড়ায় নেই কোনও নলকূপ। তাই পানীয় জল সংগ্রহ করতে হয় দূরের অন্য পাড়া থেকে। তাতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ সেখানকার মহিলাদের। ভরা গ্রীষ্মকাল পানীয় জলের খুবই সমস্যা হতো, তাই প্রশাসনের তরফে গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় ট্যাঙ্কারের সাহায্যে সরবরাহ করা হচ্ছিল পানীয় জল। কিন্তু গত পাঁচদিন ধরে ধাদকির মাহাতো পাড়ায় আসছে না জলের ট্যাঙ্কার। ফলে পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে ওই পাড়ায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পরেও গ্রামে জলের ট্যাঙ্কার আসেনি। এতে খুবই সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাড়ার মহিলাদের। তাই এদিন বাধ্য হয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ওই পাড়ার মহিলাদের একাংশ। রাস্তার উপর জলের পাত্র রেখে অবরোধে শামিল হন তাঁরা। এদিন অবরোধের জেরে পুঞ্চা-লালপুর ব্যস্ততম রাস্তায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে কিছুক্ষণের জন্য। রাস্তার দু’পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। দাঁড়িয়ে পড়ে যাত্রীবাহী বাস সহ অন্যান্য যানবাহন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুঞ্চা থানার পুলিস, অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে। পরে নিয়মিত পানীয় জলের ট্যাঙ্কার গ্রামে আসার প্রতিশ্রুতি পেতেই অবরোধ তুলে নেয় মাহাত পাড়ার বাসিন্দারা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের অন্যান্য পাড়ায় ট্যাঙ্কারের সাহায্যে জল সরবরাহ করা হচ্ছে, অথচ পাঁচদিন ধরে আমাদের মাহাতো পাড়ায় জলের ট্যাঙ্কার পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সেখানকার কুড়ি থেকে ত্রিশটি পরিবার পানীয় জলের সমস্যায় পড়েছে।
পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনিলবরণ সহিস বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ওখানে পানীয় জলের ট্যাঙ্কার বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। আমাদের ৫৫ জায়গায় ট্যাঙ্কারের সাহায্যে নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে। ওখানে কেন জলের ট্যাঙ্কার পৌঁছয়নি, খোঁজ নিয়ে দেখছি।