সংবাদদাতা, তপন: পুনর্ভবা নদীর জল বৃদ্ধির সঙ্গে আতঙ্ক বাড়ছে বাসিন্দাদের। যেসব এলাকায় বাঁধ নেই, সেখান দিয়ে অল্প হলেও জল ঢুকে পড়েছে তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায়।
তপন ব্লকের আজমতপুর, রামপাড়া চেঁচড়া, রামচন্দ্রপুর এবং গুড়াইল অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পুনর্ভবা। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বর্ষণে এই নদীর জল বৃদ্ধি হয়ে প্রায় প্রতি বছরই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গত এক সপ্তাহে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির ফলে পুনর্ভবার জল আজমতপুর অঞ্চলের বাসুরিয়া, সুতইল, জিগাতলী সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সব্জিখেত জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নষ্ট হয় পটল, ঝিঙে সহ অন্যান্য সব্জি। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ক্রমশ জল বাড়তে থাকায় বাঁধহীন এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। এরপর বাড়িতেও জল ঢুকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
বাসুরিয়ার সন্দীপ চক্রবর্তীর কথায়, আমাদের এলাকায় প্রায় ১৫টি পুকুর জলের তলায়। মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। ঘর ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে বাসিন্দাদের আশ্রয় নেওয়ার জায়গাও নেই। এলাকায় একটা ফ্লাড রিলিফ সেন্টার হলে ভালো হতো।
রামপাড়া চেঁচড়া অঞ্চলে বাঁধ থাকলেও অন্যান্য বছরগুলিতে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। এবারও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বাসিন্দারা। সোমবার বিকেল পর্যন্ত আজমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসুরিয়া, সুতইল এলাকায় নদী তীরবর্তী এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কিছু জায়গায় বাড়ির কাছাকাছি জল চলে আসায় ভয় বাড়ছে বাসিন্দাদের। জিগাতলী, গোপীনাথপুর, বজরাপুকুরের বাসিন্দারাও আতঙ্কে রয়েছেন।
বাসুরিয়ার পঞ্চায়েত সদস্য মোহন বর্মন বলেন, প্রায় প্রতি বছর বন্যা পরিস্থিতির শিকার আমরা। যেভাবে নদীতে জল বাড়ছে, একদিনের মধ্যে বাড়িতে জল ঢুকে যেতে পারে। আমাদের এলাকায় নদী বাঁধ দেওয়া হলে খুব ভালো হয়।
একই বক্তব্য বন্যা হাজরা, ভুঁইমালিদের। তাঁরা বলছেন, বাড়িতে জল ঢুকে গেলে কোথায় থাকব জানি না। পাড়ায় বেশিরভাগই মাটির বাড়ি। সরকারি বাড়ি পেলে হয়তো ঘর ছাড়তে হত না। জলমগ্ন তপনের বাসুরিয়া অঞ্চল। - নিজস্ব চিত্র।