• গণপিটুনিতে মৃতদের নিকট আত্মীয়কে স্পেশাল হোম গার্ডের চাকরি দেবে রাজ্য
    বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গণপিটুনির ঘটনায় যাঁদের প্রাণ গিয়েছে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মৃতের নিকট আত্মীয়কে স্পেশাল হোম গার্ডের চাকরি এবং পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করল রাজ্য। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। 


    বউবাজার, সল্টলেক, পাণ্ডুয়া, ঝাড়গ্রাম, তারকেশ্বর। পর পর গণপিটুনির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য। এর রেশ গিয়ে পড়েছে নবান্নেও। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিসের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। গুজব ছড়ানো থেকে শুরু করে রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে এই চক্রান্ত করা হচ্ছে কি না, সে দিকেও নজর দিতে পুলিসকে নির্দেশ দেন বলে সূত্রের খবর। পুলিসের কাছে কেন আগাম খবর থাকছে না, এই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।


    সাংবাদিক বৈঠকে গণপিটুনির ঘটনাকে সাম্প্রতিককালের অপ্রীতিকর ঘটনা বলে উল্লেখ করে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথা রাজ্য সরকারের গোচরে এসেছে। এই সূত্রে পুলিসকে সর্বাধিক সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে এবং কড়া আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। মানুষকেও জাগ্রত ও সতর্ক থাকতে হবে।’ এই ইস্যুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) মনোজ ভার্মা। তিনি জানান, ‘আমাদের সমস্ত পুলিস সুপার এবং পুলিস কমিশনার সহ যত পুলিস ইউনিট আছে ওদের নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি আইন ভাঙেন, তাহলে সেই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’ এদিন যদিও এই সংক্রান্ত কতগুলি মামলা হয়েছে এবং কতজন মারা গিয়েছেন, সে তথ্য প্রকাশ্যে আনতে চাননি এডিজি।


    জানা গিয়েছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে কী কী করণীয় পুলিস সুপার এবং কমিশনারদের, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে নবান্ন। তাতে বলা হয়েছে, গণপিটুনির ঘটনা রোধ করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কেউ ফেক নিউজ এবং গুজব ছড়াচ্ছে কি না সেই দিকে নজর রাখতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় অতীতে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, সেই সমস্ত এলাকাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করে পেট্রলিং চালাতে হবে। ফেক নিউজ ছড়ানো ঠেকাতে প্রত্যেক পুলিস সুপার এবং পুলিস কমিশনারদের একটি করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, তৎক্ষণাৎ খবর পেতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ভিডিও কনফারেন্সের এজেন্ডায় নিয়ম করে ফেক নিউজের ইস্যুটি রাখাও বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ, সিআইডিকেও এক্ষেত্রে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলা হয়েছে ১২ দফা নির্দেশিকাটিতে। 
  • Link to this news (বর্তমান)