• নকল নথি দিয়ে ইএমআই বাকি থাকা গাড়ি বিক্রির চক্র, ধৃত দুই
    বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ঝাঁ চকচকে নতুন গাড়ি। তবে, ইএমআই চলছে। কিন্তু, নকল নথি বানিয়ে দেখানো হতো, ইএমআই বাকি নেই! এভাবেই চলছিল ইএমআই বাকি থাকা গাড়ি বেশি দামে বিক্রির চক্র। অবশেষে পুরো ঘটনার কিনারা করল বিমানবন্দর থানার পুলিস। চক্রের দু’জন কিংপিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জেরা করে উদ্ধার করা হয়েছে ওই ধরনের ছ’টি চার চাকার গাড়ি। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সৌরভ দে এবং রাজ সর্দার। এই চক্রে তাদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


    পুলিস জানিয়েছে, ধৃত দু’জন সেই গাড়ি মালিকদের সঙ্গেই যোগাযোগ করত, যাঁরা অল্পদিনের মধ্যে ব্যক্তিগত কারণে নতুন গাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিন্তু, তাঁদের গাড়ির ইএমআই চলছে বলে আসল মালিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতেন। সেই মতো সৌরভ ও রাজ আসল মালিকদের কাছে ওই বিষয়টি লিখিয়ে নিত। গাড়ি নতুন হলেও যেহেতু ইএমআই চলছে, তাই কম দামেই সৌরভ ও রাজ ওই ধরনের গাড়ি কিনত। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী বাকি থাকা ইএমআই এবার তাদেরই দেওয়ার কথা। কিন্তু, প্রতারণা শুরু হতো তারপর।


    গাড়ি নিয়ে ধৃতরা ক্রেতা খুঁজত। নতুন গাড়ি বিক্রি আছে বলে যোগাযোগ করত। গাড়ির আসল মালিকের নামেই ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করত। সেইসব নথির মধ্যে রয়েছে– গাড়ির ইএমআই বাকি নেই, পুরো পেমেন্ট হয়ে গিয়েছে, এই মর্মে ব্যাঙ্কের সার্টিফিকেট সহ নথিপত্র। অল্পদিন আগে কেনা গাড়ি এবং কোনও ইএমআই বাকি নেই– এই বলে তিনগুণ, চারগুণ দামে তারা ওই গাড়ি বিক্রি করে দিত। এদিকে, আসল মালিক যেহেতু গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন, তাই তিনি ইএমআই দেওয়া বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ খোঁজ শুরু করে, কেন ইএমআই বন্ধ। তারপর সামনে আসে, আসল মালিকের নামে থাকা গাড়ি ব্যবহার করছেন তৃতীয়জন! কিছুদিন আগে এক মহিলা ওই ধরনের একটি গাড়ি কেনেন। তিনি বিষয়টি জানতে পারার পর বিমানবন্দর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ 


    দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত শুরু করে। তারপরই পুলিস দু’জন পান্ডাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের জেরা করে পুলিস জানতে পারে, সম্প্রতি তারা ছ’টি গাড়ি এভাবে কিনে বিক্রি করে দিয়েছিল। পুলিস ওই ছ’টি চারচাকা গাড়িও উদ্ধার করেছে। পুলিসের দাবি, কোনও পুরনো গাড়ি কেনার আগে ভালো করে নথিপত্র খতিয়ে দেখুন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে খোঁজ নিন, যাতে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে না হয়। - নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)