• আড়িয়াদহে দুষ্কৃতী হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জয়ন্ত সিং অধরাই, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী
    বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আড়িয়াদহে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের ঘটনায় এখনও মূল অভিযুক্ত জয়ন্ত সিং অধরা। মঙ্গলবার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। স্বভাবতই রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ছত্রছায়ায় এলাকায় দুষ্কৃতীরাজ চলছে। যদিও শাসকদলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মারধরের ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।


    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সায়নদীপ পাঁজার বাড়ি আড়িয়াদহের কেদারনাথ সিংহ রোড এলাকায়। শনিবার রাতে তিনি বাড়ির সামনে বন্ধু সূর্য দাসের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন। সেই সময় পথচলতি এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। এরপর ওই যুবক দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। যুবকটি স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্য। ওই ক্লাবেরই মাথা জয়ন্ত সিং। জয়ন্ত আড়িয়াদহের শখেরবাজার এলাকার বাসিন্দা। সে এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবে পরিচিত। বছর দুয়েক আগে এলাকায় ঝামেলা পাকানো, মারধর ও গুলি চালানোর ঘটনায় পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর রাতে জয়ন্ত সিংয়ের নেতৃত্বে দুষ্কৃতীরা এসে হামলা চালায়। সায়নদীপকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁকে বাচাতে এলে মা বুবুন পাঁজাকেও এলোপাথারি মারা হয়। মা ও ছেলে এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিস এই ঘটনায় কৃষ্ণেন্দু দাস সহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ওই ক্লাবের সামনেও তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঝুমা পাঁজা বলেন, ওই ক্লাবটি সমাজবিরোধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দিনভর নেশার ঠেক চলে। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। সায়নদীপের বন্ধু সূর্য দাস বলেন, রাত ১টা নাগাদ পথচলতি এক মদ্যপ যুবকের সঙ্গে আমাদের বচসা হয়েছিল। সে হুমকি দিয়ে গিয়েছিল। এরপর জয়ন্ত সিংয়ের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী এসে হামলা চালায়। ওরা ওই ক্লাব থেকে ইট ও হকি স্টিক নিয়ে এসে হামলা করেছে। ওদের গ্রেপ্তারের দাবিতেই পথে নেমেছেন স্থানীয়রা। সায়নদীপের বাবা বিমল পাঁজা বলেন, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিস ও প্রশাসন কোনও সহযোগিতা করছে না। পুলিস মূল অভিযুক্তকে ধরেনি। উল্টে কয়েকজন আনকোরা ছেলেকে পাকড়াও করেছে। আমাদের অনুমান, পুলিসের ‘শেল্টার’-এ অভিযুক্তরা রয়েছে। ওদের দাপটে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাই এদিন স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ হয়েছে। আমি মানুষকে রাস্তায় নামতে অনুরোধ করেছি। মানুষ ভয় ভেঙে রাস্তায় না নামলে কাল তাঁর পরিবারের সঙ্গেও এই ঘটনা ঘটবে। পুলিস ও প্রশাসন দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষই নিজের হাতে আইন তুলে নেবে।


    কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, দলের তরফে পুলিসকে আইনানুগ পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। আমরা কোনও গুন্ডামি বরদাস্ত করব না। তিনি জয়ন্ত সিংয়ের সঙ্গে দলের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)