• ধাপায় ভস্মীভূত মোবিলের গোডাউন
    বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগুন আতঙ্ক যেন কলকাতার পিছু ছাড়ছে না! এবার ধাপায় বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল মোবিলের একটি গোডাউন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ধাপা-মাঠপুকুরের সায়রাবাদ এলাকার ওই গুদামে আগুন লাগে। দমকলের ২০টি ইঞ্জিনের প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। একটা সময় ফোম ব্যবহার করতেও দেখা যায় দমকলকর্মীদের। মোবিলের মতো দাহ্য পদার্থ ঠাসা থাকায় শেষ পর্যন্ত অবশ্য কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসে পোড়া গন্ধ আর ধোঁয়া দেখা গিয়েছে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা। এদিন ঘটনাস্থলে আসেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। আগুন লাগার কারণ ও ওই গুদামের আইনি বৈধতা ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


    সম্প্রতি শহরের অ্যাক্রোপলিস মল, বিবাদী বাগের গার্স্টিন প্লেসে আগুন লাগে। তবে আগুনের তীব্রতায় ধাপার ঘটনা সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। স্থানীয় বসিন্দারা বলছেন, সকালে গুদাম বন্ধ ছিল। হঠাত্ পোড়া গন্ধ আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে গুদাম। ভিতর থেকে বেশ কয়েকবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তীব্র ধোঁয়ায় দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে পৌঁছেছিল। তাই দমকলকর্মীদের আগুনের উত্সস্থল খুঁজতে বেগ পেতে হয়। গুদামের ইটের দেওয়াল পাশের বাড়ির দেওয়ালের উপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে থাকে। বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে দমকলমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছেন। চারপাশে জনবসতি রয়েছে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে অনেক ক্ষতি হতে পারত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছি। কোনও কাগজপত্র না থাকলে গোডাউন বন্ধ করে দিতে বলব। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, দমকলের ২০টি ইঞ্জিন এবং  ৮০০ লিটার ফোম ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি পুকুরের জলও ব্যবহার করা হয়েছে। 


    সকালে আগুন লাগলেও বিকেল পর্যন্ত চলে ‘কুলিং প্রসেস’। ধিকি ধিকি ধোঁয়া তখনও বের হচ্ছিল। রাতের দিকে আশপাশের বাসিন্দারা বাড়িতে ঢোকেন। ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপন সাহা বলেন, ‘গোডাউনটি ২০০৬ সাল থেকে চলছে। তখন এখানে জনবসতি ছিল না। তবে এই গোডাউনের কোনও অনুমোদন নেই। বিল্ডিং, দমকল, ট্রেড লাইসেন্স, কিছুই নেই। আমরা কিছুদিন হল, অবৈধ প্লাস্টিক কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। তার মধ্যেই এই ঘটনা।’ স্থানীয় এক বাসিন্দা বললেন, ‘সামনেই এরকম আরও একটি মোবিলের গুদাম রয়েছে। যেকোনও দিন দুর্ঘটনা হতে পারে। অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি।’
  • Link to this news (বর্তমান)