• শ্যালককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় বাবা ও ছেলের পুলিস হেফাজত
    বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর থানার রানাবাঁধে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগে ধৃত দু’জনকে মঙ্গলবার চন্দননগর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক চারদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।


    রবিবার রাতে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বিশ্বজিৎ মান্নাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল দু’জনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিকাশ সামন্ত ও তার ছেলে দেবকান্ত সামন্ত। মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বিকাশের শ্যালক, খুড়শ্বশুরের ছেলে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তারকেশ্বর থানার পুলিস দুই অভিযুক্তকে জেরা করার পর গ্রেপ্তার করে।


    আদালতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকরা বিকাশকে জিজ্ঞাসা করেন, কী এমন হয়েছিল যে, নিজের আত্মীয়কে পিটিয়ে মেরে ফেললেন? জবাবে বিকাশ বলে, বিশ্বজিৎ টাকা চুরি করেছিল। এরপর অবশ্য এ নিয়ে আর কোনও কথা বলেনি বাবা ও ছেলে।


    মঙ্গলবারও রানাবাঁধ এলাকা ছিল থমথমে। অলিগলিতে জটলা। সর্বত্রই আলোচনা একটাই— সন্দেহের বশে শ্যালককেই পিটিয়ে মারল বদমেজাজি বিকাশ। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন জটলায়। স্থানীয় বাসিন্দা দীপঙ্কর মান্না বলেন, এইসব মানুষের অত্যাচারে গ্রামবাসীরা অতিষ্ঠ। প্রতিবাদ করলে রগচটা বিকাশ কাউকেই রেয়াত করত না। উল্টে চলত ধমক, শাসানি। এমনকী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও ছাড়ত না। গ্রামেই মুড়ির কারখানা চালাত বিকাশ। ওই কারখানার হিসেব নিয়েই সম্ভবত শ্যালকের উপর ক্ষিপ্ত হয়েছিল বিকাশ। আমরা গ্রামবাসীরা সকলেই বাবা ও ছেলের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। আগের দিন বিকাশের নিজের শ্যালক উৎপল মান্নাও জামাইবাবুর ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলেন।  


    মঙ্গলবার সকাল থেকেই তারকেশ্বর থানার পক্ষ থেকে মাইকিং করে  জনসাধারণকে সচেতন করা হয়। বলা হয়, এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে নিজেদের হাতে আইন তুলে নেবেন না। দ্রুত পুলিসকে খবর দিন।
  • Link to this news (বর্তমান)