নাগর নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন গ্রাম, সমস্যায় করণদিঘির পূর্ব রাঘবপুরের ৫০টি পরিবার
বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, করণদিঘি: বর্ষা এলেই এক সমস্যা। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় গ্রাম। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল যাওয়া সহ অন্যান্য কাজ। উত্তরবঙ্গজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় নাগর নদীর জলস্তর বাড়ছে। সেজন্য নয়াটোলা থেকে পূর্ব রাঘবপুর গ্ৰামে যাওয়ার রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে গ্ৰামের ৫০টি পরিবার সহ স্কুল পড়ুয়ারা। পূর্ব রাঘবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় যাওয়ার রাস্তাও নাগর নদীর জলের তলায়। স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে বন্যায় ভেঙে যায় পূর্ব রাঘবপুর গ্ৰামে যাওয়ার রাস্তা। তখন থেকে প্রতিবছর জল ভেঙে যাতায়াত করতে হয় গ্ৰামের বাসিন্দাদের। পঞ্চায়েত, বিধানসভা, লোকসভা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও রাস্তা মেরামত করা উদ্যোগ নেয় না নেতা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত, প্রশাসন। রাস্তায় জল বাড়তেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ছোট ছোট পড়ুয়ারা। অসুস্থদের নিয়ে যেতে পারাপারে ভরসা নৌকা।
পূর্ব রাঘবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেরামত আলি জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে বন্যার পর রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় প্রশাসনকে বারবার বললেও ব্রিজ তৈরি হয়নি। বিদ্যালয়ে ২৭৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় নয়াটোলা গ্ৰামে থেকে প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
জল বাড়তেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে ৫০টি পরিবারের। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে নৌকা ছাড়া যাতায়াতের উপায় নেই। পূর্ব রাঘবপুরের বাসিন্দা মোশারফ আলি বলেন, জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে। স্কুলের ঘরের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। আমাদেরও আতঙ্ক বাড়ছে। আলতাপুর ১ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান আমেনা খাতুন বলেন, স্কুলের চারিদিকে জল জমে আছে। এলাকার লোকজনও আতঙ্কের মধ্যে থাকছেন। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। করণদিঘির বিধায়ক গৌতম পালের মন্তব্য, পূর্ব রাঘবপুর গ্ৰামের রাস্তা প্লাবনে ভেঙে যাওয়ায় সমস্যা রয়েছে। বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখে ব্রিজ সহ রাস্তা তৈরির জন্য প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত যাতে টেন্ডার করা হয়, সেজন্য আধিকারিকদের অনুরোধ করব। নিজস্ব চিত্র